প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তো সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। তাকে নূর খান এয়ারবেসে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। এই সফরে তিনি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলসহ উপস্থিত ছিলেন, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৮ থেকে ৯ ডিসেম্বরের এই সফরে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এটি প্রেসিডেন্ট সুবিয়ান্তোর পাকিস্তানে প্রথম সফর, যেখানে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি পর্যায়ের সফর হয়েছিল ২০১৮ সালে, তখনকার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর নেতৃত্বে।
এই বছর পাকিস্তান-ইন্দোনেশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি হওয়ায় সফরটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। রাষ্ট্রীয় সফরকালে প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং প্রেসিডেন্ট জারদারির সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়াও তিনি পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।
উভয় পক্ষের বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, জলবায়ু, শিক্ষা এবং সংস্কৃতি—এই সকল ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে পারস্পরিক কাজের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হবে। সফর শেষে একাধিক সমঝোতা স্মারক সই হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের ভিত্তিতে পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে, যা বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হয়েছে। এর আগে জুলাইয়ে ইন্দোনেশিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শাফরি স্যামসুদ্দিন ইসলামাবাদে এসে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
উভয় দেশের মধ্যে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতেও সম্প্রতি সহযোগিতা বাড়ানো হয়েছে। জুন মাসে তারা ভ্যাকসিন উৎপাদন, ইন্দোনেশিয়ায় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, ওষুধ উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে সম্মত হয়েছিল। এবার রাষ্ট্রপতি পর্যায়ের এই সফর সেই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। দুই দেশের নেতারা উভয় পক্ষের যৌথ প্রকল্প এবং বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
সফরকালে প্রেসিডেন্ট সুবিয়ান্তো ইসলামাবাদে বিভিন্ন সরকারি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। এতে উভয় দেশের মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি পাবে। এই সফরের মাধ্যমে পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি গঠনমূলক ভিত্তি আরও দৃঢ় হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাকিস্তান-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই সফর কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ও উদ্বোধন করবে। আঞ্চলিক শান্তি, বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ সূচনা।
উভয় দেশই ইতিমধ্যেই বিভিন্ন খাতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী ও সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করছে। রাষ্ট্রপতি সুবিয়ান্তোর এই সফর সেই ধারাবাহিকতার অংশ, যা দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে নতুন মাত্রা দেবে।
এই সফর পাকিস্তান-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কের ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক দিক থেকে এটি ভবিষ্যতে নতুন প্রকল্প ও বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করবে। সফরের শেষ দিকে উভয় দেশের নেতারা একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবেন, যা দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও পারস্পরিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি এবং মানবসম্পদ বিনিময় আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্য এই সফরে আলোচিত হবে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।