প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকার তিতুমীর কলেজের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২৩–২৪ সেশনের শিক্ষার্থী বিশ্বজিৎ চন্দ্র বর্মনকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ মামলায় রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
বিশ্বজিৎ চন্দ্র বর্মনকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্টের কারণে মামলার মুখোমুখি হতে হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তার প্রকাশিত পোস্টে ইসলামের প্রতি অনীহা ও অবমাননার ছোঁয়া ছিল, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত তৈরি করেছে। পুলিশ ও তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তে এসেছে এবং প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
তিতুমীর কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী বিশ্বজিৎ চন্দ্র বর্মন স্থানীয় সমাজে পরিচিত একজন প্রতিভাবান ছাত্র হলেও এই ঘটনায় তার আচরণ অনেকের নজরে এসেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, পোস্টের প্রকৃত সামগ্রী এবং প্রকাশের সময়কাল বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এছাড়া তদন্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
রিমান্ডে পাঠানোর পর, পুলিশ তাকে আরও তদন্তে সহযোগিতা করতে এবং ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য, প্রভাব ও দায় নির্ধারণে প্রশ্ন করার সুযোগ পাবে। তদন্ত কর্মকর্তারা আশা করছেন, রিমান্ডের মাধ্যমে তারা পোস্টের সোর্স, সম্ভাব্য সহায়ক এবং বিষয়টি ছড়ানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।
বিশ্বজিৎ চন্দ্র বর্মনের এই ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং সমাজের মধ্যে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্টরা জানান, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মতো ঘটনা গুরুতর এবং তা প্রতিহত করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিতুমীর কলেজ প্রশাসন ইতিমধ্যেই বিষয়টি নজরে নিয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের দায়িত্ববোধের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, দেশে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বা কটূক্তি বিষয়ে সর্বদা সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা, আইন সম্পর্কে ধারণা বৃদ্ধি এবং ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্বের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এমন ঘটনায় আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় যাতে সমাজে অশান্তি সৃষ্টি না হয়।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সমাজ ও রাজনীতিতে বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অনেকেই আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ এবং সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিমান্ডকালে বিশ্বজিৎ চন্দ্র বর্মনের কাছ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হবে যা মামলার সঠিক দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পুলিশ ও আদালত আশা করছেন, প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ঘটনার প্রকৃত দায় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে এবং যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার এবং শিক্ষার্থীদের আচরণের বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে অশ্লীল বা বিতর্কিত পোস্ট থেকে দূরে থাকার বিষয়টি সকল শিক্ষার্থী ও প্রবাসী ব্যবহারকারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
পরবর্তীতে রিমান্ড প্রক্রিয়ার সময় আদালত ও তদন্ত সংস্থা নিশ্চিত করবেন, ঘটনায় কেউ অবৈধ প্রভাব বা চাপ প্রয়োগ করতে পারবে না। একই সঙ্গে তারা সচেতন করেছেন, সামাজিক নৈতিকতার সঙ্গে আইনের শাসন মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
মামলার তদন্ত চলমান থাকায় বিশ্বজিৎ চন্দ্র বর্মনের ভবিষ্যত কার্যক্রম আদালত ও পুলিশ নির্ধারণ করবেন। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিমান্ড শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবারকে বিষয়টি যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।