হবিগঞ্জে বিল দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৩০ জন আহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২০ বার

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় ধলেশ্বরী নদীর তৃতীয় খণ্ড সংলগ্ন খাইঞ্জা বিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১টা পর্যন্ত উপজেলার স্বজন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সূত্রপাত বিল দখলকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধের কারণে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিলের মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে লাখাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আরিফ আহমদ এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মহিবুর রহমান ও ইউপি সদস্য এনামুলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আজ সকাল ১০টার দিকে মহিবুর ও এনামুলের পক্ষে সাবেক ইউপি সদস্য লিয়াকত মিয়ার নেতৃত্বে একদল লোক ওই বিলে প্রবেশ করেন। এতে বাধা দেন আরিফ আহমদের সমর্থকরা।

একপর্যায়ে বিষয়টি উত্তেজনা সৃষ্টির মাধ্যমে সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে চলা মারামারিতে অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে হারিছ মিয়া (৫৫) নামের একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের মধ্যে ২৫ জনকে স্থানীয় লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষের সময় পুলিশ এবং সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লাখাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কৃষ্ণ চন্দ্র মিত্র জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত আছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে, আজ বিকেল পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংঘর্ষ চলাকালীন অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর থাকায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। সংঘর্ষের মধ্যে থাকা অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা পেয়েছেন।

বিল দখলকে কেন্দ্র করে এমন সংঘর্ষে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবও পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা পারিবারিক ও রাজনৈতিক বিরোধ এবং সম্পদের মালিকানা সংক্রান্ত অশান্তি মাঝে মাঝে সহিংসতা এবং মারামারির রূপ নেয়। বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সচেষ্ট।

ঘটনা সম্পর্কে বিশ্লেষকরা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান সম্পত্তি বা সম্পদ সংক্রান্ত বিরোধগুলো যদি সমাধান না করা হয়, তা পুনরায় সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। স্থানীয় জনসাধারণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সচেতনতার অভাবও পরিস্থিতিকে তীব্র করে।

হবিগঞ্জ বিল দখল সংঘর্ষে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন বর্তমানে প্রশাসনের অগ্রাধিকার। পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর উপস্থিতি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা এড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিল দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। স্থানীয় প্রশাসনও জানাচ্ছে, দখল সংক্রান্ত এই ধরনের বিবাদ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য স্থানীয় সমঝোতা কমিটি এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

হবিগঞ্জে বিল দখল সংঘর্ষে আহতদের সংখ্যা এবং পরিস্থিতি প্রশাসন, স্থানীয় জনসাধারণ ও রাজনৈতিক দলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই ঘটনায় সামাজিক স্থিতিশীলতা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং স্থানীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব আরও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত