বিএসএফ সীমান্তরক্ষী নয়, খুনি বাহিনীতে পরিণত: নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫
  • ৬৫ বার
বিএসএফ সীমান্তরক্ষী নয়, খুনি বাহিনীতে পরিণত: নাহিদ ইসলাম

প্রকাশ: ০৯ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এখন আর সীমান্তরক্ষী বাহিনী হিসেবে কাজ করে না, বরং একটি খুনি বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। ভারতের আধিপত্যবাদী নীতির কারণে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বারবার লঙ্ঘিত হয়েছে এবং দেশের পানির ন্যায্য ভাগ বণ্টনও আটকা পড়েছে। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিকভাবে ভারত বাংলাদেশকে দীর্ঘদিন ধরে অবদমন করে আসছে।

বুধবার (৯ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে চুয়াডাঙ্গা শহরের শহিদ হাসান চত্বরে আয়োজিত একটি পথসভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সীমান্ত হত্যাকাণ্ড আমরা কখনো মেনে নিতে পারব না। গত ৫৪ বছরে সীমান্তে হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। শুধুমাত্র চুয়াডাঙ্গার সীমান্ত এলাকায় অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছেন।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ভারতের সহায়তায় দেশের ভিতরে গুম, খুন ও দমন-পীড়নের রাজনীতি চালাচ্ছে। ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বিগত ১৬ বছর ধরে এ ধরনের নিপীড়ন চালিয়ে আসছে।’

এ সময় দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘শেখ হাসিনা গণহত্যার নির্দেশ দিয়েছেন এবং নিজেই গণহত্যা পরিচালনা করেছেন। অথচ ভারত সরকার মোদি সরকারের অধীনে তাকে আশ্রয় দিয়েছে। একজন মানবতাবিরোধী অপরাধীকে আশ্রয় দেয়ার দায়ভার ভারতের ওপরই বর্তায়।’

আখতার হোসেন বলেন, ‘ভারত সরকারকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, ইতিহাসের কাছে আপনাদের জবাবদিহি করতে হবে। মোদি সরকারকে মনে রাখতে হবে, গণমানুষের রক্ত কখনো ধোয়াযায় না।’

পথসভায় আখতার হোসেন এনসিপির রাজনৈতিক দর্শন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই দেশের রাজনীতিতে নতুন ধারা ও নতুন চিন্তার প্রবাহ। আমরা বৈষম্যহীন, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছি, যেখানে মানুষের মর্যাদা, অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত থাকবে।’

নেতারা আরও বলেন, ‘গণতন্ত্র, মানবিকতা, স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং আইনের শাসনের জন্য আমাদের অনেক ভাই শহিদ হয়েছেন। সেই রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে শুধু সরকারের পরিবর্তন নয়, গোটা রাষ্ট্র কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে।’

এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সারজিস আলমের সঞ্চালনায় পথসভায় কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব মোল্লা মো. ফারুক এহসান, ডা. তাসনিম জারা, হাসনাত আব্দুল্লাহসহ চুয়াডাঙ্গার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।

এর আগে আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া বাজারে ‘জুলাই পদযাত্রা’র উদ্বোধন হয়। দুপুরে আলমডাঙ্গা শহরের আলতাইবা মোড়ে এবং বিকেলে দর্শনা ও জীবননগরে দুটি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর এনসিপির নেতারা ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

এভাবে তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে জনসাধারণের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক ভাবনা ও অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি সরকারের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত