প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম প্রতিভাবান অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান দেশের মাটিতে একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলেই সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। রোববার (৭ ডিসেম্বর) প্রচারিত ‘বিয়ার্ড বিফোর উইকেট’ পডকাস্টের এক এপিসোডে তিনি নিজের ভাবনার কথা প্রকাশ করেন। পডকাস্টে সাকিব জানান, দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের সামনে নিজের ক্যারিয়ারের ইতি টানাই তার মূল উদ্দেশ্য।
বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের জন্য যিনি উজ্জ্বল মুহূর্ত সৃষ্টি করেছেন, বাঁ-হাতের ঘূর্ণি ও চমকপ্রদ ব্যাটিং দিয়ে সমর্থকদের আনন্দের উপহার দিয়েছেন, সেই সাকিব আজ জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন। ২০২৪ সালের ভারত সফরের পর থেকে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে আছেন। তবে দেশবাসীর উদ্দেশে শেষ পর্যন্ত মাঠে ফেরা এবং নিজের সমাপ্তি নিজ হাতে ঘোষণা করা তার অঙ্গীকার।
সাকিব বলেন, “আমার ক্যারিয়ারে সমর্থকদের ভালোবাসা অনেক বড় প্রভাব ফেলেছে। তারা সব সময় পাশে ছিল। তাদের সামনেই ক্যারিয়ারের ইতি টানতে চাই। এজন্য ফিট থাকতে বিশ্বের বিভিন্ন লিগে খেলছি।” পডকাস্টে তিনি নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দেশের মাটিতে খেলতে আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন।
সাকিব আল হাসান শুধু ক্রিকেটে নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় হতে আগ্রহী। তিনি মনে করেন, দেশের মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ এখনও বাকি আছে। “আমার ক্যারিয়ারের ক্রিকেটীয় অধ্যায় প্রায় শেষ। তবে রাজনৈতিক দিকটি এখনও বাকি আছে। আমি বাংলাদেশের মানুষের জন্য, বিশেষ করে মাগুরার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। এটাই আমার বর্তমান লক্ষ্য,” পডকাস্টে জানান এই সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হোম সিরিজ শেষে তিনি লাল বলের ক্রিকেট ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তখন দেশে ফিরতে পারেননি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে থাকলেও তিনি নিজের ফিটনেস ও খেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখছেন। দেশের মাটিতে খেলেই তিনি নিজের ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন।
সাকিবের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের ভরসার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ছিলেন সাকিব। তাঁর মাঠে ফেরা ও অবসরের পরিকল্পনা অনেকের জন্য আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সমর্থকরা আশা করছেন, দেশের মাটিতে শেষবারের জন্য মাঠে নামার সময় তিনি আগের মতোই অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করবেন।
পডকাস্টে তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়লেও দেশের মানুষের জন্য কাজ করা তার জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। দেশের যুব সমাজের কাছে তিনি এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। সমর্থকদের জন্য সাকিবের মাঠে উপস্থিতি শুধু খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।
সাকিব আল হাসানের এই ঘোষণা দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। তাঁর অবদান, দীর্ঘদিনের পারফরম্যান্স ও দেশের মাটিতে শেষ সিরিজ খেলার পরিকল্পনা পরবর্তী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য এক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।