এনসিপির ১০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত, আজই ঘোষণা সম্ভাবনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৩৩ বার
এনসিপি প্রার্থী তালিকা ঘোষণা

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। নির্বাচনের মাঠে ইতোমধ্যেই বড় বড় দলগুলো প্রার্থী বাছাইয়ের কাজে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনে অংশ নিতে ১০০টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নীতিনির্ধারক জানাচ্ছেন, বড় কোনো পরিবর্তন না হলে আজ মঙ্গলবারই এই তালিকা ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে তালিকা প্রকাশ এক দিন পিছিয়ে বুধবারও হতে পারে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার সোমবার রাতে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন, প্রাথমিক ধাপে ১০০টি আসনে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে এবং তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, দলটি শুরু থেকেই তরুণ, পেশাজীবী ও নীতিনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়ে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ পরিচালনা করছে। তাই পরিবারভিত্তিক বা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাবের চেয়ে যোগ্যতা, নৈতিক অবস্থান ও ‘রাষ্ট্র সংস্কার ভাবধারা’কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এনসিপির নীতিনির্ধারণী সূত্র জানায়, প্রথম ধাপের ঘোষণায় যে ১০০ আসন রয়েছে, সেগুলোতে দলীয় সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত। বাকি আসনগুলো সরকারের সঙ্গে জোটগত সমঝোতা ও স্থানীয় পর্যায়ের পর্যালোচনার ভিত্তিতে ঠিক করা হবে। ডিসেম্বরের মধ্যেই সব আসনে প্রার্থী ঘোষণা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দলটি গত ৬ নভেম্বর থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করে, যা সময় বাড়িয়ে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত চালানো হয়। এই সময়ে মোট ১ হাজার ৪৮৪টি ফরম বিক্রি হয়, যা দলের আগামী নির্বাচনে কাজের পরিধি ও জনপ্রিয়তার ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছে দলীয় নেতৃত্ব। তবে মনোনয়ন বণ্টনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ে কিছু অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কিছু সিনিয়র নেতা অভিযোগ তুলেছেন, দলের দুই উপদেষ্টা ও কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা মনোনয়ন বণ্টনে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করছেন এবং পারিবারিক সদস্যদের অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এসব অভিযোগ দলের ভেতরে ক্ষোভের সৃষ্টি করলেও শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানা যায়।

এনসিপি নেতৃত্ব নির্বাচনে নিজস্ব অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইছে। আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, পাশাপাশি তিনি ঢাকা-৯ আসন থেকেও লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে সদস্যসচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪ আসনে লড়াই করবেন বলে জানা গেছে। দলটির সঙ্গে জড়িত অন্তর্বর্তী সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টাও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঢাকা-১২ বা ঢাকা-১০ আসন থেকে, আর তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম লক্ষ্মীপুর-১ থেকে নির্বাচন করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া শীর্ষ নেতৃত্বের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বিভিন্ন অঞ্চলে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ভোলা-১, আরিফুল ইসলাম আদিব ঢাকা-১৪, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা ঢাকা-৯, মনিরা শারমিন নওগাঁ-৫, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-১৮ আসনে নির্বাচনী মাঠে নামছেন। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম পঞ্চগড়-১, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লা-৪ এবং সিনিয়র যুগ্ম সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ নোয়াখালী-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দলের অনেকেই ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন, যেখানে তারা দলের ‘রাষ্ট্র সংস্কার’ অঙ্গীকারকে তুলে ধরছেন।

দলের নির্বাচনী প্রস্তুতির পাশাপাশি রাজনৈতিক জোট গঠনে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এনসিপি। গত রোববার দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে মুখপাত্র করে “গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট” নামে নতুন একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি। এই জোটে যুক্ত হবে কয়েকটি উদীয়মান ও বিকল্প রাজনৈতিক দল, যারা বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামোর সংস্কার এবং নতুন ধারা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। এতে এনসিপির ভূমিকা আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এনসিপির প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় বর্তমান জাতীয় রাজনীতিতে তুলনামূলক ভিন্নধারার প্রতিচ্ছবি পাওয়া যাচ্ছে। প্রত্যাশিত পরিবর্তনের রাজনীতি, জবাবদিহি, তরুণ নেতৃত্বের উত্থান এবং অপ্রচলিত নেতৃত্বকে সামনে আনার যে প্রতিশ্রুতি দলটি দিচ্ছে, তা জনমানসে নতুন ধরনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছে। তবে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ, মনোনয়ন বণ্টনে প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ এবং তৃণমূলের ক্ষোভ—এসব চ্যালেঞ্জ দলটির জন্য আগামী দিনে বড় পরীক্ষাই হয়ে দাঁড়াবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশের পর দলের ভেতর-বাহিরে প্রতিক্রিয়া আরও স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি নতুন জোটের কাঠামো, জোটগত আসন বণ্টন এবং সারা দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় এনসিপির গ্রহণযোগ্যতা—সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অঙ্গন আরও উত্তপ্ত হতে পারে।

সবশেষে, আজকের ঘোষণার মাধ্যমে এনসিপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করবে—এমন প্রত্যাশা দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তালিকা ঘোষণার পর দলটি কতটা সুষ্ঠুভাবে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ সামাল দিতে পারে এবং কতটা সফলভাবে দেশের ভোটারদের কাছে তাদের রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত