বেগম রোকেয়া: সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনের পথপ্রদর্শক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৩১ বার
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বেগম রোকেয়াকে সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনের পথপ্রদর্শক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, বেগম রোকেয়া শুধু নারী শিক্ষার একজন দূরদর্শী নেতা ছিলেন না, বরং তিনি সমাজ সংস্কারের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ও সুবিন্যস্ত সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখিয়েছেন।

মঙ্গলবার সকালেই রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত রোকেয়া পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার বক্তব্যে উঠে আসে বেগম রোকেয়ার জীবনের মূল দর্শন ও আদর্শ। তিনি বলেন, “রোকেয়া সাহস, জ্ঞান এবং নৈতিকতার মিশ্রণে এমন একটি সমাজের দিকনির্দেশনা দেখিয়েছেন, যেখানে প্রতিটি মানুষ সমান অধিকার, শিক্ষা এবং সুযোগ পাবে। তিনি সমাজের জন্য যে পাথেয় রেখে গেছেন, তা আজও প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।”

রোকেয়া পদক প্রদান অনুষ্ঠানটি মূলত নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দিতে আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাবিদ, সামাজিক কর্মী এবং নারী উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর ভাষণে আরও বলেন, বেগম রোকেয়ার দর্শন শুধু শিক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; তিনি সমাজের নৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল, নারী ও পুরুষ উভয়েই সমাজের মূলধারায় সমানভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে এমন একটি সুসংগঠিত সমাজ গঠন করা।

উল্লেখযোগ্য যে, বেগম রোকেয়ার শিক্ষা আন্দোলন ও সমাজ সংস্কারের প্রচেষ্টা বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়নের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। তিনি নারী শিক্ষা, সামাজিক সমতা এবং মানবাধিকার রক্ষায় যে অবদান রেখেছেন, তা আজও সমগ্র জাতির জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। প্রধান উপদেষ্টার মতে, “রোকেয়ার কাজ আমাদের শেখায় যে, শিক্ষা ও নৈতিক দিকনির্দেশনার সমন্বয়ে কেবল একটি সুশৃঙ্খল সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তার আদর্শের মাধ্যমে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ উন্নয়ন, ন্যায় এবং সৃজনশীলতায় অংশ নিতে পারবে।”

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

পদক প্রদান অনুষ্ঠানে রোকেয়া পদকপ্রাপ্তরা তাদের অর্জন ও সমাজ সেবার লক্ষ্য সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন। এসময় উপস্থিত অতিথিরা বেগম রোকেয়ার আদর্শ ও দর্শনের ওপর নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা সমন্বিতভাবে সমাজকে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এক অপরিহার্য ভূমিকা রাখে এবং সেই পথপ্রদর্শক ছিলেন বেগম রোকেয়া।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্যে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয় যে, বেগম রোকেয়ার দৃষ্টিভঙ্গি আজও সমসাময়িক সমাজে প্রযোজ্য। নারীর ক্ষমতায়ন, সমতা এবং শিক্ষার প্রসারক হিসেবে তার কাজ শুধু অতীত নয়, বরং ভবিষ্যতের সমাজ গঠনে একটি দিকনির্দেশনার মতো কাজ করছে। তিনি বলেন, “আমাদের দায়িত্ব হলো বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা এবং একটি উন্নত, ন্যায্য ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠন করা।”

এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মও শিক্ষিত ও সমাজ সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন হয়েছে। রোকেয়া পদকের এই আয়োজন প্রমাণ করে যে, বেগম রোকেয়ার মূল্যবোধ, সাহসিকতা এবং শিক্ষা-দর্শন সমাজের জন্য চিরকাল প্রেরণার উৎস হিসেবে থাকছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত