প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থীদের ঋণখেলাপি সংক্রান্ত তথ্য সঠিক, নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গভাবে প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, নির্বাচনকালীন ঋণতথ্য যাচাই আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তথ্য হালনাগাদ ও যথাযথ প্রতিবেদনের ওপর জোর দিতে হবে।
গত রোববার ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) থেকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা উত্থাপিত হয়। সভায় ব্যাংকগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। সূত্র জানায়, প্রার্থীদের ঋণখেলাপি অবস্থা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ পরিচিতিমূলক তথ্য, ঋণস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য এবং প্রতিটি অ্যাকাউন্টের হালনাগাদ প্রতিবেদন নির্বাচনকালীন ডেটাবেসকে শক্তিশালী করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিআরপিডি ও পরিদর্শন বিভাগের ঋণ শ্রেণিকরণ সংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী সব ঋণ তথ্য সঠিক শ্রেণিমানে রিপোর্ট করতে হবে। ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে, সিআইবি ডেটাবেসে বিতরণ করা সব ধরনের ঋণের তথ্য নিশ্চিত করতে এবং ঋণগ্রহীতার কোনো অবহিত না করা ঋণ থাকলে তা সঙ্গে সঙ্গে সিআইবিতে জানাতে হবে। তবে ক্রেডিট কার্ডের নন-ট্রানজেকশনাল ফি বা চার্জের কারণে কাউকে খেলাপি হিসেবে দেখানো যাবে না। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের শ্রেণিকরণ সঠিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, সিআইবি ডেটাবেসে ঋণগ্রহীতা এবং সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পরিচিতিমূলক জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিন) দ্রুত হালনাগাদ করতে হবে। তথ্য হালনাগাদ না থাকলে ঋণখেলাপি নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। খেলাপি ঋণের কারণে হাইকোর্টে দায়ের করা মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে আইনজীবী নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বা আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া মামলার তথ্য দ্রুত সিআইবিকে জানাতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করলে নির্বাচনকালীন ঋণতথ্য প্রস্তুতি হবে আরও নির্ভুল, আধুনিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। এতে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রকৃত আর্থিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী প্রার্থী হওয়ার সাতদিন আগে কারো ঋণ নিয়মিত থাকলেই চলবে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি কাউকে খেলাপি বলে, তার প্রার্থিতা বাতিল হবে। সংশোধিত আদেশ অনুযায়ী নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি কারো ঋণখেলাপি বা অন্য কোনো মিথ্যা তথ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়, তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল করা যাবে।
এর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ৩০০টি আসনের বিপরীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট দুই হাজার ৭১৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে এসব প্রার্থী ঋণখেলাপি কি না তা সিআইবি থেকে যাচাই করা হয়েছিল। যাচাই-বাছাইয়ের পর অন্তত ১১৮ জন প্রার্থী ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হন। আইন অনুযায়ী, ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে প্রার্থীর দেওয়া তথ্য মিলিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তারা যাচাই করেন এবং প্রার্থীর ঋণখেলাপি থাকলে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া অনেকে প্রার্থী ঋণখেলাপি হওয়ায় ইতিমধ্যেই তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নিজের নাম থেকে খেলাপি তথ্য মুছে ফেলার চেষ্টা শুরু করেছেন। অনেকেই বিভিন্ন সুবিধার মাধ্যমে খেলাপি তালিকা থেকে নিজেদের নাম সরাতে সক্ষম হয়েছেন।
এভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও ব্যাংকগুলোর সঠিক তথ্য হালনাগাদ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের আর্থিক যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার বিষয়টি জোরদার হবে এবং ভোটাররা প্রার্থীদের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।