আসাদের উৎখাতের বর্ষপূর্তিতে শারা করেছেন অঙ্গীকার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭০ বার
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারা

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারা এক বছরের মধ্যেই আসাদের পতনের বার্ষিকীতে ঘোষণা করেছেন যে তারা ন্যায়, সহাবস্থান এবং ঐক্যের নতুন যুগ সূচনা করবেন। এই উপলক্ষে রাজধানী দমাশকসহ দেশের বড় শহরগুলোতে মানুষ রাস্তায় নেমে উদযাপন করেছেন, যার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

গত বছরের নভেম্বরে আল-শারার জোট একটি দ্রুত সামরিক অভিযান পরিচালনা করে ডিসেম্বর ৮ তারিখে দমাশক দখল করে। এর মাধ্যমে আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকের শাসন এবং দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে। এই ঘটনাকে সিরিয়ার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পালা হিসেবে মনে করা হচ্ছে। শহরের প্রাচীন মসজিদগুলোতে প্রার্থনার মাধ্যমে উদযাপন শুরু হয় এবং জনগণ সিরিয়ার পতাকা হাতে নিয়ে আনন্দের অংশীদার হয়।

শারা এদিন বলেন, “আজ স্বাধীনতার ভোরে আমরা অতীতের দমনশীলতার চিহ্ন ভেঙে দিচ্ছি। আমরা ন্যায়, কল্যাণ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের একটি নতুন যুগের সূচনা ঘোষণা করছি।” তার বক্তব্যের পরে সারাদেশে আতশবাজি ও জনসমাগমের মাধ্যমে উদযাপন অব্যাহত থাকে। তিনি আরও বলেন, “আমরা সকল অপরাধীর বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়ার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যারা সিরিয়ার জনগণের প্রতি আইনভঙ্গ ও অপরাধ করেছে।”

২০১১ সালে প্রজাতন্ত্রতান্ত্রিক প্রতিবাদ দমনকালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যা অর্ধ মিলিয়নের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়েছে। এছাড়াও, বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। গৃহযুদ্ধের দীর্ঘ সময়ে দেশটি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে ভেঙে পড়েছিল, যা সিরিয়ার পুনর্গঠনকে জটিল ও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শারা কিছু অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি সিরিয়ার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন এবং বিদেশি নিষেধাজ্ঞা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে জনতাকে আস্থা দেওয়া, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সরকারি প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং ভগ্ন দেশকে সংযুক্ত রাখা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।

শারা বলেন, “একটি শক্তিশালী সিরিয়া গড়ে তোলার, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার এবং জনগণের ত্যাগের যথার্থ ফলাফল নিশ্চিত করার জন্য এখন সকল নাগরিকের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।” তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সকল স্তরের নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।

রাজধানী দমাশক এবং অন্যান্য বড় শহরে উদযাপনে শিশু, যুবক ও প্রবীণদের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। রাস্তাঘাট, চত্বরে এবং শহরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকায় মানুষ আনন্দ উদযাপনে অংশ নেন। সিরিয়ার পতাকা, আলো এবং আতশবাজির মাধ্যমে একটি ঐক্যবদ্ধ চিত্র ফুটে ওঠে। এমন দৃশ্যের মাধ্যমে দেশজুড়ে পরিবর্তনের বার্তা জনগণের মধ্যে পৌঁছায় এবং আশা জাগায়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শারার নেতৃত্বে সিরিয়ার এই নতুন যুগ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় পুনর্গঠনের জন্য একটি বড় ধাপ হিসেবে বিবেচিত হবে। দেশের জনগণ ইতিমধ্যেই সহাবস্থান ও শান্তিপূর্ণ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে মানিয়ে চলার চেষ্টা শুরু করেছে। সিরিয়ার ইতিহাসে এই নতুন অধ্যায় জনগণের দীর্ঘদিনের আশা ও সংগ্রামের প্রতিফলন।

শারার এই অঙ্গীকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরেও এসেছে। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সিরিয়ার পুনর্গঠন এবং সহাবস্থানের প্রচেষ্টায় সমর্থন প্রকাশ করেছে। যদিও চ্যালেঞ্জ এখনও বড়, তবে শারার নেতৃত্ব এবং জনগণের ঐক্য ভবিষ্যতে দেশের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে সিরিয়ার জনগণ নতুন স্বাধীনতা, ন্যায় এবং কল্যাণের যুগের সূচনা উদযাপন করছে। শারার প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে দেশের পুনর্গঠন এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথে এগোনোকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত