সুদানে বিমান হামলায় নিহত বেসামরিক এক হাজার ৭০০

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭৫ বার
সুদানের স্কুল-বাজার-বাড়িঘরে বিমান হামলায় এক হাজার ৭০০ নিহত

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সুদানের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, বাজার, স্কুল এবং আশ্রয়শিবিরে সামরিক বিমান হামলায় কমপক্ষে এক হাজার ৭০০ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধ এবং সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে এই হত্যাকাণ্ডের তথ্য সুদান উইটনেস প্রজেক্টের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এই প্রজেক্টটি ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত সংঘটিত বিমান হামলার তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং দেখা গেছে যে, সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ) জনবসতিপূর্ণ এলাকাতেও নির্বিচারে বোমা ব্যবহার করেছে।

সুদান উইটনেস প্রজেক্টের পরিচালক মার্ক স্নোয়েক জানিয়েছেন, এ ধরনের বিমান হামলায় নিহত বেসামরিকদের সংখ্যা ও হামলার স্থানগুলো নির্দেশ করছে যে, সরকারী বাহিনী যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করেনি। সংঘাত চলাকালীন সময়ে আরএসএফ-এর বিমান নেই, তারা মূলত ড্রোন হামলা চালাতে পারে। তবে এসএএফের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা জনবসতিপূর্ণ এলাকা লক্ষ্যবস্তু করেও বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্ক স্নোয়েক বলেন, “যেখানে অবিস্ফোরিত বোমা এবং বড় গর্ত দেখা যাচ্ছে, সেই স্থানগুলোতে বেসামরিক মানুষদের ওপর আঘাত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”

বিশ্লেষণে দেখা যায়, আবাসিক এলাকায় ১৩৫টি, বাজার ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় ৩৫টি এবং স্বাস্থ্যসেবা, আশ্রয়কেন্দ্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৯টি হামলার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। হামরাত আল–শেখ বাজারে বিমান হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন এবং ১০০ জন আহত হয়েছেন। আল–কুমা বাজারে নিহতের সংখ্যা ৬৫। দক্ষিণ কর্ডোফানে কালোগিতে একটি কিন্ডারগার্টেন এবং হাসপাতালের ওপর আরএসএফ ও মিত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় ১১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে ৬৩ জন শিশু।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বিমান হামলার এই তীব্রতা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নজর কেড়েছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর এই হামলাগুলোকে বেসামরিক নিরাপত্তার প্রতি অগ্রহণযোগ্য অবহেলা হিসেবে অভিহিত করেছে। সংঘাত বিশ্লেষকরা বলছেন, বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হলেও কোনো পক্ষই উল্লেখযোগ্য সামরিক সাফল্য অর্জন করতে পারছে না।

তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দুর্বল টেলিযোগাযোগ এবং নির্ভরযোগ্য উৎস শনাক্তের সমস্যার কারণে সব হামলার তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবুও সুদান উইটনেস প্রজেক্ট কঠোর যাচাই-প্রক্রিয়া ব্যবহার করে বেসামরিক লোকদের ওপর হামলার বিস্তৃত চিত্র উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। মার্ক স্নোয়েক জানিয়েছেন, বিমান হামলার ধরন থেকে বোঝা যায় যে, এসএএফ যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি যাতে বেসামরিক লোকজনের ক্ষতি এড়ানো যায়।

আঞ্চলিকভাবে এই হামলা মানবিক সংকটকে আরও জটিল করেছে। গৃহযুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যেই লক্ষ লক্ষ মানুষ গৃহহীন এবং বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে মানুষের জীবন বিপন্ন। অসংখ্য শিশু, নারী ও প্রবীণরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। শহর ও গ্রামাঞ্চলে হুংকারা শরণার্থী শিবিরগুলোতেও বিমান হামলা চলেছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং যুদ্ধসংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।

মার্ক স্নোয়েক আরও বলেন, “এসএএফের ব্যবহার করা এসএইচ–২৫০ গোলাবারুদ এবং অবিস্ফোরিত বোমার চিহ্নগুলো স্থলাভিষিক্ত শিবিরে পাওয়া গেছে। এটি নির্দেশ করে যে বেসামরিক স্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনায় সশস্ত্র বাহিনী যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করেনি।”

আঞ্চলিক বাজার, হাসপাতাল, স্কুল ও আবাসিক এলাকায় একাধিক বিমান হামলার ফলে প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলা স্থানীয় অর্থনীতি, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে। আক্রান্ত অঞ্চলের মানুষ অনাহারে, অসুস্থ এবং নিরাপত্তাহীন অবস্থায় জীবন যাপন করছে।

সুদানের বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং জাতিসংঘের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমান হামলার এই তীব্রতা এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর আক্রমণ স্থায়ীভাবে দেশকে অস্থিতিশীল অবস্থায় রাখছে এবং মানবিক সঙ্কটকে আরও গভীর করছে।

উভয় পক্ষই সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ড্রোন হামলা এবং বিমান হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। তবে বেসামরিক জনগণের প্রাণহানি এবং ভয়াবহ ধ্বংসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে দিচ্ছেন। সংঘাতের এই চিত্র সুদানের জনগণের জন্য এক বড় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে, যা স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে দ্রুত সমাধান ও হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত