কেমন করে বুজবেন শিশুর ক্ষিধা পায়

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫
  • ৮৮ বার

নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
প্রকাশ: ৯ জুলাই ২০২৫

একটি শিশুর সবচেয়ে সহজ ভাষা হলো কান্না। বিশেষ করে জন্মের পরের প্রথম মাসগুলোতে কাঁদা ছাড়া তার কাছে আর কোনো উপায়ই থাকে না মনের কথা জানানোর। ক্ষুধা, অস্বস্তি বা কোনো ব্যথা—সবই সে জানায় একটিমাত্র শব্দে, কান্নায়। ফলে শিশুর কান্না শোনামাত্রই মা-বাবা বা পরিবারের অন্যরা অনুমান করতে শুরু করেন, সে খিদে পেয়েছে কি না। তবে সবসময় যে শিশুর কান্না মানেই সে ক্ষুধার্ত, তা নয়। আবার অনেক সময় ক্ষুধার্ত হয়েও কান্না শুরুর আগে ছোট্ট এই মানুষটি কিছু স্পষ্ট আচরণে বুঝিয়ে দেয়, এখনই তার খিদে লেগেছে। এ আচরণগুলো জানা থাকলে শিশুকে অনাহারে না রেখে সহজেই তাকে খাওয়ানো যায়, কষ্টের মাত্রাও কমে।

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশুবিশেষজ্ঞ ডা. তাসনুভা খান এ বিষয়ে বলেন, ‘শিশুরা ক্ষুধার অনুভূতি বিভিন্নভাবে প্রকাশ করে। অনেকেই মনে করেন, শিশু ক্ষুধার্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে কাঁদে। আসলে তা নয়। কান্নার আগে সে অস্থিরতা, অস্বস্তি আর ক্ষুধার নানা ইঙ্গিত দিয়ে রাখে। মা-বাবা বা অভিভাবকরা সেসব সংকেত বুঝতে পারলে শিশুর কান্না শুরু হওয়ার আগেই তাকে খাওয়ানো সম্ভব।’

শিশু ক্ষুধার্ত হলে সবচেয়ে আগে প্রায়ই ঘুম ভেঙে যায়। ঘুমন্ত শিশুর আচমকা জেগে ওঠা বা হঠাৎ চোখ বড় করে চারপাশে তাকানোও হতে পারে ক্ষুধার বড় ইঙ্গিত। এ সময় সে মাথা ও ঘাড় এদিক-ওদিক নাড়ায়, যেন কোনো কিছু খুঁজছে। অনেকে জিহ্বা বারবার বের করে বা ঠোঁট নাড়িয়ে দুধ খাওয়ার মতো মুখভঙ্গি করে। এ ছাড়া লালা গড়িয়ে পড়াও ক্ষুধার অঙ্গসংকেত হিসেবে ধরা হয়।

আরেকটি সাধারণ লক্ষণ হলো হাত মুখের কাছে নিয়ে আসা। ক্ষুধার্ত শিশু হাতের আঙুল মুখে পুরে চোষার চেষ্টা করে বা আশপাশে কোনো নরম কাপড় থাকলে সেটিও মুখে তুলতে চায়। হাত মুঠো করে বারবার নাড়ানো, হাত-পা ছোড়াছুড়ি করা, শরীরে অস্থিরতা দেখা দেওয়া—এসবই একধরনের ক্ষুধার ভাষা।

ডা. তাসনুভা বলেন, ‘অনেক নতুন মা-বাবা ভাবেন, শিশু হাত চুষছে মানে সে শুধু খেলার ছলে করছে। কিন্তু বেশিরভাগ সময় এ আচরণ ক্ষুধার স্পষ্ট ইঙ্গিত। তাই শিশুকে মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কান্না শুরুর আগে এসব সংকেত ধরতে পারলে শিশুর ক্ষুধা মেটানো সহজ হয়, একই সঙ্গে তার অস্থিরতাও কমে যায়।’

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশুরা প্রায়ই নির্দিষ্ট বিরতিতে ক্ষুধার্ত হয়, বিশেষত নবজাতকরা দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরপর খিদে পায়। তাই নিয়মিত সময়মতো খাওয়ানো জরুরি। কখনো কখনো শিশুরা জেগে থেকেও ক্ষুধার্ত না হয়ে অন্য কোনো কারণে হাত চুষতে পারে, যেমন দাঁত ওঠার সময়। তাই যদি বারবার খাওয়ানোর পরও সে হাত চুষতে থাকে, তবে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।

শিশুর ক্ষুধার ভাষা বুঝতে পারাটা নতুন মা-বাবার জন্য শুরুতে একটু কঠিন হতে পারে। তবে যত বেশি সময় তারা শিশুর সাথে থাকবেন, যত্ন নেবেন ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করবেন, তত সহজেই তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে সন্তানের ক্ষুধার ইশারা। আর সেটিই নিশ্চিত করবে শিশুর আরাম, স্বাভাবিক বৃদ্ধি আর সুস্থ বিকাশ।

কীভাবে বুঝবেন শিশুর খিদে পেয়েছে

ছোট্ট শিশু কাঁদলে তাকে খাওয়ানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ি। একটা সময় পর্যন্ত কান্না ছাড়া নিজের খিদের কথা জানান দেওয়ার আর কোনো ভাষা শিশুর থাকে না। তবে বাস্তবতা হলো, খিদে পেলে একদম নিরুপায় হয়ে কাঁদে শিশু। খিদে পেলে কান্নার আগে নানা আচরণ দিয়ে আরও কিছু ইঙ্গিত সে করে।

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরামর্শক, শিশুবিশেষজ্ঞ ডা. তাসনুভা খান বলেন, ছোট্ট শিশু ক্ষুধার অনুভূতি অনেকভাবেই প্রকাশ করে। এরপরও সে খাবার না পেলে অস্থির হয়ে ওঠে, নিজের মতো করে কিছুটা বিরক্তিও প্রকাশ করে। তারপরও যদি খাবার না পায়, তখন সে কাঁদে।

এ সম্পর্কে এই বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে আরও কিছু জেনে নেওয়া যাক।

খিদের জানান দেওয়া

ঘুমের মাঝে খিদে পেলে শিশুর ঘুম ভেঙে যায়। সে চোখ বড় করে চারদিকে তাকায়। মাথা ও ঘাড় নাড়ায় এদিক-ওদিক। দেখে মনে হয়, সে বুঝি কিছু খুঁজছে।

খিদে পেলে ছোট্ট শিশু একটু পরপর জিহ্বা বের করে। মুখ খোলা-বন্ধ করা বা দুধ খাওয়ার মতো মুখভঙ্গি করার মাধ্যমেও খিদের জানান দেয়। খিদে পেলে শিশুর লালাও গড়িয়ে পড়তে পারে।

হাত মুখের কাছে নিয়ে এসে আঙুল মুখে পুরে দেওয়া বা আশপাশে কোনো কাপড় থাকলে মুখে পুরে দেওয়াও হতে পারে খিদের বহিঃপ্রকাশ। খিদে পেলে অস্থির হয়ে অনেক শিশুকে হাত মুঠ করে ফেলতেও দেখা যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত