তুরস্ক-হাঙ্গেরি স্বাক্ষর ১৬ চুক্তি, সম্পর্ক আরও গভীর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৩৮ বার
তুরস্ক-হাঙ্গেরি

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

তুরস্ক ও হাঙ্গেরি সোমবার ইস্তানবুলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১৬টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। এই সমঝোতা স্মারকগুলো বিমান চলাচল, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। দুই দেশের নেতারা এদিন যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানান, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক লক্ষ্য ছয় বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং উভয় পক্ষ তা ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে। এরদোয়ান বলেন, “২০২৫ সালে আমরা ২৮টি যৌথ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছি এবং যৌথ প্রকল্পের জন্য যথাযথ সম্পদ বরাদ্দ করেছি। এটি তুরস্ক-হাঙ্গেরির ‘বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের বছর’ হিসাবে ঘোষিত হয়েছে।”

দুই দেশ একটি যৌথ পরিকল্পনা দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্বারা পরিচালিত হবে। এই দল দ্বিপক্ষীয় ও বৈশ্বিক বিষয়গুলোকে আরও সমন্বিত ও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করবে। এরদোয়ান বলেন, “ইউরোপে পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে আমরা এমন প্রকল্প মূল্যায়ন করছি — যার মধ্যে যৌথ উৎপাদনও অন্তর্ভুক্ত — যা আমাদের প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।”

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন এবং অন্যান্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যু সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন। এরদোয়ান বিশেষভাবে হাইলাইট করেছেন হাঙ্গেরির অবদান তুর্কি রাষ্ট্র সংস্থার পর্যবেক্ষক সদস্য হিসেবে। তিনি বলেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসী যে হাঙ্গেরি আমাদের স্ট্র্যাটেজিক লক্ষ্য, অর্থাৎ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সদস্যপদ অর্জনের ক্ষেত্রে সমর্থন অব্যাহত রাখবে।”

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে এরদোয়ান বলেন, “শুরু থেকেই আনকারা সকল কূটনৈতিক সম্পদ ব্যবহার করে ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এই যুদ্ধে বিজয়ী বা পরাজিত নেই; ন্যায়সঙ্গত শান্তিতে সবাই লাভবান।” তিনি আরও জানান যে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাকে সহায়তা করবে।

চুক্তিসমূহের মধ্যে রয়েছে বিমান চলাচল উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি বিনিময়, শিক্ষা ও সংস্কৃতি উন্নয়ন এবং বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনে যৌথ কার্যক্রম। এছাড়াও দুই দেশ যৌথ প্রকল্পে বিনিয়োগ, গবেষণা এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করবে, যা দু’দেশের মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ওরবানকে সম্মানে একটি রাষ্ট্রীয় ডিনার আয়োজন করেন। উভয় নেতা এসময় রাজনৈতিক সংহতি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চুক্তিসমূহ কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তুরস্ক ও হাঙ্গেরির মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি, প্রযুক্তি বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা উভয় দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ও উন্নয়নের দিক খুলে দেবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই চুক্তি স্বাক্ষর উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে দৃঢ় করার পাশাপাশি ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষা ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ দু’দেশের জনগণকে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার দিকে প্রণোদিত করবে।

এরদোয়ান ও ওরবান উভয়ই যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “আমরা পারস্পরিক সহযোগিতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একে অপরের পাশে থাকব।” এই উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে নতুন বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ কার্যক্রম আরও দৃঢ় হবে।

চুক্তিসমূহের স্বাক্ষর দুই দেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় নতুন দিক নির্দেশ করবে। বিশেষজ্ঞরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, যৌথ উদ্যোগ ও চুক্তিসমূহ বাস্তবায়ন হলে উভয় দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রগুলোতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি আসবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত