ইউক্রেন নতুন শান্তি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৮ বার
ইউক্রেন নতুন শান্তি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইউক্রেন রাশিয়ার নিকট দেশের পূর্বাঞ্চল ছেড়ে দেয়ার প্রয়োজন এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হিসেবে হোয়াইট হাউসে একটি সংশোধিত শান্তি পরিকল্পনা উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, নিজেদের ভূমির এক ইঞ্চিও ছাড়বেন না। এ সিদ্ধান্তের পর কিয়েভ নতুন প্রস্তাব নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এই খবর জানিয়েছে বিবিসি।

রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইকে এগিয়ে নিতে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) লন্ডনে ইউরোপের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জেলেনস্কি। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শান্তি–প্রস্তাব নিয়ে চলমান বিতর্ক এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ইউরোপ বিষয়ক কঠোর নীতির মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ডাউনিং স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস অংশ নেন। বৈঠকে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ঐক্য জরুরি। তার ভাষায়, ‘কিছু সিদ্ধান্ত আছে যা আমেরিকা ছাড়া সম্ভব নয়, আবার কিছু ইউরোপ ছাড়া নয়।’

জেলেনস্কি জানান, যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নতুন শান্তি–পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত। আগের ২৮ দফার মার্কিন প্রস্তাবে ‘ইউক্রেনবিরোধী’ যেসব শর্ত ছিল, সেগুলো বাদ দিয়ে এখন ২০ দফার পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করেন, পরিকল্পনাটি আজ মঙ্গলবারই (৯ ডিসেম্বর) ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে।

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল দোনবাসের (দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক) ভবিষ্যত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। জেলেনস্কি বলেন, তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে আলাদা নিরাপত্তা নিশ্চয়তার চুক্তি চান—যদি রাশিয়া আবার যুদ্ধ শুরু করে তবে তাদের অবস্থান কী হবে, সেটি স্পষ্ট করতে হবে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নিরাপত্তা কৌশল ইউরোপে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নথিতে রাশিয়াকে হুমকি হিসেবে না দেখিয়ে বলা হয়েছে—ইউরোপীয় দেশগুলো মস্কোকে ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ মনে করে, আর যুক্তরাষ্ট্র নাকি ইউরোপ–রাশিয়ার স্থিতি পুনর্গঠনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকবে। মস্কো এ কৌশলকে স্বাগত জানিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জেলেনস্কির নতুন প্রস্তাব একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যাতে ইউক্রেনের ভূখণ্ড সংরক্ষণ ও পশ্চিমা সমর্থন নিশ্চিত করা যায়। পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা এবং সীমানা সংরক্ষণের বিষয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা ছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তি গ্রহণ করবে না। এছাড়া, নতুন ২০ দফার পরিকল্পনায় ইউক্রেনের দাবি এবং নিরাপত্তা আশ্বাসের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে।

জেলেনস্কি এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশের এক ইঞ্চিও ছাড়তে পারি না। আমাদের লক্ষ্য হলো রাশিয়ার আগ্রাসন প্রতিহত করা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা।’ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইউক্রেনের এই অবস্থানকে সমর্থন জানাচ্ছে, তবে এখন দেখার বিষয় ট্রাম্প প্রশাসন এবং ইউরোপীয় নেতারা কতটা সহমত প্রকাশ করবেন।

নতুন প্রস্তাব পাঠানোর পরই পশ্চিমা দেশগুলো এই প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে আলোচনার সুযোগ খুঁজবে এবং সম্ভব হলে যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। কিয়েভের এই পদক্ষেপ যুদ্ধকালে কূটনৈতিক সমাধান এবং ভূখণ্ড সংরক্ষণের লক্ষ্যকে সামনে রেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে।

সংক্ষেপে, ইউক্রেনের নতুন শান্তি প্রস্তাব মূলত পূর্বাঞ্চল দখলের শর্ত বাদ দিয়ে এবং নিরাপত্তা আশ্বাস নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিকভাবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান খুঁজতে উদ্যত হয়েছে। জেলেনস্কি ও ইউক্রেন সরকার আশা করছেন, এই নতুন পরিকল্পনা যুদ্ধবিরতি ও স্থিতিশীল শান্তি অর্জনের পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত