মস্কো-ইভানোভো আকাশে রুশ সামরিক বিমান বিপর্যয়ে ৭ জন নিহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৫ বার
রাশিয়া সামরিক বিমান দুর্ঘটনা

প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরের ইভানোভো অঞ্চলে বিধ্বস্ত হলো রুশ সামরিক বাহিনীর একটি এএন-২২ সিরিজের কার্গো বিমান। মঙ্গলবার ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় পাইলটসহ সাত ক্রু সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, সামরিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই পরীক্ষামূলকভাবে আকাশে ওঠা বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভয়াবহভাবে আছড়ে পড়ে জনবসতিহীন এক এলাকায়।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, উড়োজাহাজটিতে ইঞ্জিনগত ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর সেটির মেরামত করা হয়। ত্রুটি মেরামতের পর বিমানটি টেস্ট ফ্লাইটে পাঠানো হয়েছিল। এ সময় বিমানটিতে সাতজন ক্রু সদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন। টেকঅফের অল্প সময়ের মধ্যেই এএন-২২ বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত ইভানোভোর কাছে বিরান ভূমিতে বিধ্বস্ত হয়। সামরিক বাহিনীর ভাষ্য, দুর্ঘটনাস্থল জনশূন্য হওয়ায় বিমানে থাকা সাতজন ছাড়া অন্য কেউ হতাহত হয়নি।

রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে এএন-২২ একটি পুরোনো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বড় আকারের মালামাল পরিবহন ও সামরিক লজিস্টিক সহায়তায় decades ধরে বিমানটি নির্ভরযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুরোনো মডেলের এই উড়োজাহাজগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না হলে এ ধরনের ভারী পরিবহন বিমান ঝুঁকির মুখে পড়ে। ঠিক এমন পরিস্থিতিতেই হয়তো এবারও কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের পর যথাযথ পর্যবেক্ষণ ছাড়া টেস্ট ফ্লাইট চালানো হয়েছিল।

দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে সামরিক উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছান। বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসস্তূপে আগুন লাগেনি, তবে উড়োজাহাজটি সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকাশে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই বিমানটির ইঞ্জিন থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যায়। এরপর বিমানটি নিচের দিকে ধেয়ে যেতে দেখা যায়। তবে দুর্ঘটনাস্থল দূরবর্তী হওয়ায় তাৎক্ষণিক কোনো ভিডিওফুটেজ পাওয়া যায়নি। পরে স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থার ড্রোনে ধারণ করা ফুটেজে দেখা যায়, বিশাল ধাতব কাঠামোর টুকরো চারদিকে ছড়িয়ে আছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটি সম্ভাব্য সব দিক—ইঞ্জিন ত্রুটি, যান্ত্রিক ভুল, রক্ষণাবেক্ষণের মান, আবহাওয়া পরিস্থিতি ও মানবিক ত্রুটি—বিশ্লেষণ করে দেখবে। জানানো হয়েছে, তদন্ত কমিটি প্রাথমিক কাজ শুরু করে দিয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা ব্ল্যাক বক্স দ্রুত মস্কোতে পাঠানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট জানা যাবে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার প্রকৃত মুহূর্তে কী ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছিল।

এএন-২২ সামরিক পরিবহন বিমানের নকশা ১৯৬০-এর দশকে তৈরি হলেও রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে এখনও সীমিত সংখ্যক বিমান কার্যক্রমে আছে। বিমানটির চারটি টার্বোপ্রপ ইঞ্জিন রয়েছে, যা তাকে দীর্ঘ দূরত্বে ভারী কার্গো পরিবহনে সক্ষম করে। তবে পুরোনো কাঠামো ও বয়সজনিত কারণে কয়েক বছর ধরে এসব বিমানের নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনার অবকাশ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরাও বলছেন, পুরোনো সামরিক বহর রাশিয়ার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

ঘটনার পর নিহত সাত ক্রুর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা অভিজ্ঞ পাইলট ও প্রযুক্তিবিদ ছিলেন। রুশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তা প্রচুর দেখা গেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, সামরিক বাহিনীতে মানবিক ক্ষতির এই দুঃখজনক ঘটনা ভবিষ্যতে আরও সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে রাশিয়াকে নজর দিতে বাধ্য করবে।

মস্কোতে বিমান দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। তবে দুর্ঘটনাটি সামরিক বিমান হওয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তথ্যের সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া বর্তমানে সামরিক বাহিনীতে পুরোনো সরঞ্জাম ব্যবহারের যে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে, এই দুর্ঘটনা সেই আলোচনাকে আরও জোরালো করবে।

সবশেষে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এএন-২২ সিরিজের অন্যান্য বিমান অতিরিক্ত পরিদর্শনের আওতায় রাখা হবে। নিহত সাত ক্রুর মরদেহ সামরিক মর্যাদায় দাফনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত