প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নোটিং ব্যবস্থায় ডিজিটালাইজেশনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। মঙ্গলবার প্রধান কার্যালয়ে ব্যাংকের গভর্নর নতুন ই-ডেস্ক সিস্টেমের উদ্বোধন করেন, যা প্রচলিত কাগজভিত্তিক নোটিং প্রক্রিয়ার বাইরে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে আধুনিক অনলাইনভিত্তিক ব্যবস্থার দিকে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নোটিং প্রক্রিয়া এখন থেকে পুরোপুরি ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। শুরুতে প্রধান কার্যালয়ে চালু হলেও, পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য শাখা ও অফিসে সিস্টেমটি কার্যকর করা হবে। ই-ডেস্কের মাধ্যমে নোটিং দ্রুত, স্বচ্ছ এবং কার্যকর হবে, যা কাগজভিত্তিক পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, ই-ডেস্ক সিস্টেমটি বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগ–১ এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি করা হয়েছে। নতুন এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ডিসেম্বরের ১০ তারিখ থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে ডিরেক্টর লেভেল পর্যন্ত সকল নোটিং নিষ্পত্তি করা হবে। পরবর্তীতে ১ জানুয়ারি থেকে দেশের সব পর্যায়ের নোটিং অনলাইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সিস্টেমটির সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথাযথ প্রশংসা জানান। তিনি বলেন, “ডিজিটালাইজেশন আমাদের নোটিং প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং প্রমাণযোগ্য করবে। এটি শুধু প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াবে না, বরং কর্মকর্তাদের কাজের মান ও সেবার ধারাবাহিকতাও নিশ্চিত করবে।”
ডেপুটি গভর্নর বলেন, নতুন সিস্টেমের মাধ্যমে নোটিং প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং দ্রুত হবে। এটি কেবল ব্যুরোক্র্যাটিক কাজের সুবিধা নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও নিরাপদ করবে। নির্বাহী পরিচালকও বলেন, ডিজিটাল নোটিং সিস্টেম সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময় ও প্রচেষ্টা বাঁচাতে সহায়তা করবে এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সবার জন্য এক ধরনের মান নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা আশা করছেন, ই-ডেস্ক সিস্টেমের ফলে নোটিং প্রক্রিয়ার জটিলতা কমবে, কাগজের ব্যবহার হ্রাস পাবে এবং তথ্য সংরক্ষণ ও খোঁজ করা আরও সহজ হবে। এছাড়া, এটি নোটিং সংক্রান্ত অভিযোগ ও জটিলতার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরণের ডিজিটাল উদ্ভাবন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং দেশের ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ই-ডেস্ক চালু হওয়ায় সরকারি ও আর্থিক সেবা আরও কার্যকর এবং স্বচ্ছ হবে। কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ধাপে ধাপে অন্যান্য অফিসেও এই সিস্টেম চালু করার মাধ্যমে দেশের সরকারি নোটিং প্রক্রিয়ায় এক নতুন যুগের সূচনা হবে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে নোটিং সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য অনলাইনে সংরক্ষিত থাকবে, যা প্রয়োজনীয় সময় সহজে প্রমাণ ও যাচাই করা সম্ভব হবে।
ই-ডেস্ক ব্যবস্থার উদ্বোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থিক খাতে ডিজিটালাইজেশনের অগ্রগতির একটি স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে। এটি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জন্য সেবার মান বৃদ্ধি করবে এবং সরকারি প্রশাসনের দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই ডিজিটাল পদক্ষেপ দেশের আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করবে এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, আগামীতে অন্যান্য সরকারি সংস্থাও নোটিং ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া গ্রহণ করবে, যাতে সরকারি কাজের গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি পায়।