প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনার জন্য জয়ের কোনো বিকল্প নেই। লা লিগায় শীর্ষে থাকা দলটি এবারও কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তিন পয়েন্ট অর্জন করেছে। এই জয়ের নায়ক হয়ে উঠেছেন জুলেস কুন্দে, যিনি মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানের মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করে বার্সার জয় নিশ্চিত করেন।
ক্যাম্প ন্যুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বার্সেলোনা শুরুতেই সমস্যায় পড়েছিল। ২১ মিনিটে ফ্রাঙ্কফুর্টের আন্সগা দলের জন্য প্রথম গোলটি করে দেন। থ্রু বলের সুযোগ নিয়ে তিনি বক্সে ঢুকে নিচু শটে জোয়ান গার্সিয়াকে পরাস্ত করেন এবং ১-০ ব্যবধান তৈরি করে। প্রথমার্ধের শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানই ছিল স্কোরবোর্ডে, ফলে বিরতির সময় বার্সেলোনা পিছিয়ে ছিল।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ফেরার পর বার্সেলোনার আক্রমণ আরও গতিশীল হয়ে ওঠে। ৫০তম মিনিটে জুলেস কুন্দে মার্কাস রাশফোর্ডের ক্রসে হেডে সমতা টানেন এবং স্কোর সমান করেন। তিন মিনিটের মধ্যেই তিনি আবারও জাদু দেখান। এবার লামিনে ইয়ামালের ক্রস থেকে হেডে বার্সেলোনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। শেষ পর্যন্ত কোনো দলই আর গোল করতে পারেনি এবং এই ব্যবধানেই ম্যাচ শেষ হয়।
এই জয়ের ফলে বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেরা আটে থেকে সরাসরি শেষ ষোলোর আশা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ৬ ম্যাচে তিন জয়, এক হার এবং দুই ড্রয়ে তারা ১০ পয়েন্ট অর্জন করেছে এবং পয়েন্ট টেবিলের ১৪ নম্বরে অবস্থান করছে। অপরদিকে, ফ্রাঙ্কফুর্ট ৬ ম্যাচে চার হারে মাত্র ৪ পয়েন্ট অর্জন করে ৩০ নম্বরে রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের জয় শুধু তিন পয়েন্ট নয়, বরং মানসিক শক্তি বাড়ানোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বার্সেলোনা যে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে মাঠে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলতে সক্ষম, তা প্রমাণিত হলো কুন্দের কার্যকরী খেলায়। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের ডিফেন্সিভ এবং অ্যাটাকিং খেলা সমানভাবে শক্তিশালী ছিল।
ম্যাচ শেষে সমর্থকরা উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা হয়েছিলেন। কুন্দের হেড গোলে দুটো গুরুত্বপূর্ণ গোল বার্সেলোনাকে চ্যাম্পিয়নস লিগের আসর থেকে বাদ পড়া থেকে রক্ষা করেছে। এই জয় দলের জন্য আগামী ম্যাচে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করবে এবং শেষ ষোলোর পথে তাদের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করবে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তগুলো ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সর্বদা আকর্ষণীয়। বার্সেলোনা–ফ্রাঙ্কফুর্ট ম্যাচটি সেই রকমই এক উত্তেজনাপূর্ণ রোমাঞ্চের উদাহরণ। প্রতিটি গোল, প্রতিটি কৌশল এবং শেষ মুহূর্তের জয়ের উল্লাস ফুটবলপ্রেমীদের মনে চিরস্থায়ী ছাপ রেখেছে। বার্সেলোনার এই জয়ের ফলে দল আবারও তাদের শক্তিশালী খেলার স্বাক্ষর রাখল এবং সেমিফাইনাল অগ্রযাত্রার দিকে এগিয়ে গেল।