প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইসলামিক বিশ্বাস অনুযায়ী জান্নাতে মুমিনরা নবী ও রাসুলদের সঙ্গে সাক্ষাতের সৌভাগ্য লাভ করবে। তবে আলেম ও মুফাসসিরগণ বলেন, সাধারণ মানুষের পক্ষে নবী-রাসুলদের মর্যাদা ও অবস্থানের সমতুল্য হওয়া সম্ভব নয়। কোরআনের আয়াত এবং বিভিন্ন তাফসিরের আলোকে জানানো হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ অনুসরণ করে, ফরজ ও সুন্নতকে অটলভাবে মানে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে সম্মানের স্থানে রাখবেন। সেখানে সে নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের সান্নিধ্য ভোগ করতে পারবে।
তাফসির গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ঘনিষ্ঠ সাহাবি ছওবান (রা.) নবীজীর অনুপস্থিতিতে গভীর বেদনাবোধ করতেন। তিনি আখিরাতে নবীজি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন ছিলেন। আল্লাহ তাআলার নাজিলকৃত আয়াতের মাধ্যমে সেই উদ্বেগ নিরসন হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য পালন করে, তারা জান্নাতে নবী ও সৎকর্মশীলদের সঙ্গে থাকবে এবং সাথী হিসেবে উত্তম হবে। (সুরা নিসা, আয়াত: ৬৯)
তাফসির কুরতুবীতে বর্ণিত হয়েছে, জান্নাতে মুমিনরা নবী ও রাসুলদের সঙ্গে বসতে ও সাক্ষাত করতে পারবে, যদিও মর্যাদার ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকবে। এই সাক্ষাত এবং মজলিসে বসার সুযোগ জান্নাতপ্রাপ্তদের জন্য এক অপূর্ব সম্মান। আলেমরা মনে করেন, নবী-রাসুলদের সঙ্গে সান্নিধ্য কেবল নেক আমল ও আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের মাধ্যমে সম্ভব। মর্যাদা ও মর্যাদার পার্থক্য থাকলেও বিশ্বাসীদের জন্য এটি এক অনন্য সৌভাগ্য।
জান্নাতে নবী ও রাসুলদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য মুমিনদের নিয়মিতভাবে আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্য বজায় রাখা এবং নবীজীর সুন্নতের অনুসরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, পাপ থেকে দূরে থাকা এবং নেক আমলের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। আলেমরা বলেন, জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা অর্জন করা সহজ নয়; এটি আল্লাহর রহমত এবং মুমিনের সৎকর্মের ফলাফল।
শিক্ষাবিদ ও তাফসির বিশেষজ্ঞরা জানান, নবী-রাসুলদের সাক্ষাত কেবল সান্নিধ্য ভোগের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। এটি মুমিনের আত্মিক বিকাশ, নৈতিক শিক্ষা ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের মানসিক দৃঢ়তার প্রতিফলন। নবী ও সৎকর্মশীলদের সঙ্গে সাক্ষাত মুমিনদের জন্য এক প্রেরণার উৎস, যা তাদের আখিরাতের জীবনকে সমৃদ্ধ করে এবং জান্নাতে মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্যকে সুসংহত করে।
জান্নাতে নবী ও রাসুলদের সান্নিধ্য মূলত আল্লাহর কাছে প্রাপ্য মর্যাদা। আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নবী ও রাসুলরা মর্যাদায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকেন এবং সাধারণ মুমিনদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সম্মান ও শিক্ষা প্রদানের দৃষ্টিকোণ থেকে। মুমিনরা যদিও মর্যাদায় সমতুল্য হতে পারবে না, তবুও সাক্ষাতের সৌভাগ্য তাদের জন্য আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও আনন্দের উৎস।
ইসলামী তত্ত্বে বলা হয়েছে, জান্নাতের সেই মুহূর্তে নবী ও সৎকর্মশীলদের সঙ্গে দেখা শুধু নৈতিক শিক্ষা নয়, বরং মুমিনদের জন্য চিরস্থায়ী আনন্দের এক অনন্য অভিজ্ঞতা। নবী ও রাসুলদের সঙ্গে সাক্ষাত মুমিনদের নেক আমল, ধৈর্য ও ধ্যানের স্বীকৃতি। আলেমরা বলেন, এ সাক্ষাত মুমিনদের জন্য এক প্রেরণার উৎস, যা তাদের আখিরাতের জীবনকে উন্নত করে এবং আল্লাহর পথে আরও দৃঢ় করে।
অতএব, আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্য, নবীজীর সুন্নত অনুসরণ, পাপ থেকে দূরে থাকা এবং ধারাবাহিক নেক আমল মুমিনদের জন্য জান্নাতে নবী-রাসুলদের সাক্ষাতের মূল চাবিকাঠি। এটি একান্তই আল্লাহর কৃপা এবং নেক বিশ্বাসীদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ এক মুহূর্ত।