আন্তর্জাতিক উৎসবে বকুলের ‘ঝরা পাতার চিঠি’

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪৭ বার
আন্তর্জাতিক উৎসবে বকুলের ‘ঝরা পাতার চিঠি’

প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে ২৪তম ‘আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’। এই উৎসবের অংশ হিসেবে প্রদর্শিত হবে শায়লা রহমান পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ঝরা পাতার চিঠি’, যেখানে প্রধান ভ‚মিকা চরিত্রে অভিনয় করেছেন গুণী অভিনেত্রী আরজুমান্দ আরা বকুল। চলচ্চিত্রটিতে তিনি একজন লেখকের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবং ইতোমধ্যে এটি বেশ কিছু প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শকদের সামনে এসেছে। দর্শক ও সমালোচকেরা সিনেমাটির গল্প এবং চরিত্রগুলোর অভিনয়কে বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন।

আরজুমান্দ আরা বকুল জানান, ‘ঝরা পাতার চিঠি’ মূলত ভালোবাসা, অনুশোচনা ও আত্মত্যাগের মিশেলে গড়ে ওঠা জীবনবোধের গল্প। চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যে উঠে এসেছে এমন এক মানুষের আত্ম অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া, যিনি সমাজ, পরিবার ও নিজের বিবেকের টানাপড়েনের মধ্যে দিয়ে জীবনের অর্থ খুঁজে পান। বকুল বলেন, “এই সিনেমা মানুষ ও জীবনের সম্পর্কের গল্প। আমরা যতই আধুনিক হই না কেন, ভালোবাসা, বিবেক ও অনুশোচনার ভেতরেই মানুষ সত্যিকার অর্থে নিজেকে খুঁজে পায়। সেই খোঁজ দর্শককে বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করাবে এবং নানা প্রশ্নের মুখোমুখি করবে।”

চলচ্চিত্র নির্মাতা শায়লা রহমানও বকুলের অভিনয় ও গল্পের প্রতি নিবেদনকে সমালোচক ও দর্শকের মধ্যে ইতিবাচকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। আরজুমান্দ আরা বকুল বলেন, “লেখকের স্ত্রীর চরিত্রে আমি চেষ্টা করেছি নিখুঁতভাবে অভিনয় করতে। আশা করছি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে আগত অতিথিদের সঙ্গে মুখোমুখি দেখা হবে এবং তারা সিনেমার গল্প ও চরিত্রের গভীরতা উপলব্ধি করবেন।”

এছাড়া আরজুমান্দ আরা বকুল বর্তমানে জাফর আল মামুনের নির্দেশনায় ‘চাইল্ড অব দ্য স্টেশন’ নামের আর্ট মুভিতেও কাজ করছেন। তিনি জানান, এই ছবিতেও তার অভিনয় সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে, শুধু বিনোদনের জন্য নয়। বকুলের অভিনয়জীবন শুরু হয় ১৯৯৭ সালে, ফরিদুর রহমানের প্রযোজনায় ‘হিসাব নিকাশ’ নাটকে। সেই বছরই তিনি বিটিভির তালিকাভুক্ত অভিনেত্রী হন।

১৯৯৭ সালে শাহ আলম কিরণের নির্দেশনায় ‘আমি এক অমানুষ’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন বকুল। এর পর থেকে তিনি অদম্য ভালোবাসা ও প্রতিশ্রুতির সঙ্গে অভিনয় অব্যাহত রেখেছেন। কেবল অভিনয়েই নয়, সংগীতশিল্পী হিসেবেও তিনি বিশেষ পরিচিত। ২০০১ সালে বিটিভির তালিকাভুক্ত সংগীতশিল্পী হন আরজুমান্দ আরা বকুল। তার এই বহুমুখী প্রতিভা তাকে বাংলাদেশে শিল্পী হিসেবে সুপরিচিত করেছে।

চলচ্চিত্রটি নির্মাণের প্রক্রিয়া ও গল্পের কেন্দ্রবিন্দু দর্শককে চিন্তার খোরাক দেবে। জীবন, সম্পর্ক, আত্মজ্ঞান ও নৈতিকতার জটিলতা উঠে এসেছে ‘ঝরা পাতার চিঠি’ সিনেমায়। আরজুমান্দ আরা বকুলের অভিনয় এই গল্পের আবহকে সমৃদ্ধ করেছে। তার অভিব্যক্তি, ভাষা ও আবেগ চরিত্রটিকে জীবন্ত করেছে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ‘ঝরা পাতার চিঠি’ স্বল্পদৈর্ঘ্য হলেও গল্পের গভীরতা, চরিত্রের মানসিক জটিলতা ও মানবিক সংবেদনাপ্রবণতা সিনেমার মূল আকর্ষণ। দর্শকরা এই চলচ্চিত্র থেকে জীবনের নানা দিক ও নৈতিকতার প্রশ্ন নিয়ে ভাবতে পারবেন। আরজুমান্দ আরা বকুল বলেন, “আমাদের লক্ষ্য দর্শককে সিনেমার সঙ্গে মানসিকভাবে যুক্ত করা, যাতে তারা চরিত্রগুলোর আবেগ ও মানসিক জটিলতাকে অনুভব করতে পারে।”

ঢাকার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এটি প্রদর্শিত হওয়ায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক দর্শকদের সমানভাবে মনোযোগ আকর্ষণ করবে বলে প্রত্যাশা করছেন নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা। উৎসবে উপস্থিত শিল্পী ও দর্শকরা সিনেমার গল্প, অভিনয় ও চিত্রনাট্যের জটিলতা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পাবেন।

সংক্ষেপে, ‘ঝরা পাতার চিঠি’ সিনেমাটি আরজুমান্দ আরা বকুলের অভিনয় জীবনের এক নতুন দিককে তুলে ধরেছে। তার শিল্পী হিসেবে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও চরিত্রের প্রতি নিবেদনের মাধ্যমে এই চলচ্চিত্র দর্শকের কাছে একটি অনন্য অভিজ্ঞতা হিসেবে উপস্থিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত