ডিসেম্বরের ৯ দিনে এলো ১১৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৪ বার
১১৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ডিসেম্বরের প্রথম ৯ দিনে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি মাসের এই সময়ে প্রবাসীরা মোট ১১৬ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, “ডিসেম্বরের প্রথম ৯ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১১৬ কোটি ১০ লাখ ডলার, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এসেছিল মাত্র ৯৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছরে বছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। এছাড়া গত ৯ ডিসেম্বর একদিনে প্রবাসীরা দেশে ১৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন।”

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৪২০ কোটি ডলার। যা গত বছর একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি। আরিফ হোসেন খান বলেন, “প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এই প্রবাহ আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার সংরক্ষণ এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে।”

গত অর্থবছর, অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন সর্বমোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। এটি দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেকর্ড। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরও রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিকতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রেরিত এই অর্থ পরিবার, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যয় করছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। অর্থনীতিতে এই স্থিতিশীল প্রবাহের ফলে ব্যাংকিং খাতও সুস্থভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।

গত নভেম্বরে দেশে রেকর্ড ভাঙা ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। অক্টোবর ও সেপ্টেম্বর মাসে যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার এবং ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স প্রবাহিত হয়েছিল। আগষ্ট ও জুলাই মাসে যথাক্রমে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার এবং ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। এ পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যাচ্ছে, প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর ধারা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয় বাড়ার ফলে জিডিপি বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ এবং ব্যাংকিং সেক্টরের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হচ্ছে। আরিফ হোসেন খানও বলেন, “প্রবাসীদের এই অবদান দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক। এটি শুধু পরিবারের জীবন মান উন্নত করছে না, বরং জাতীয় অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করছে।”

রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি বিশেষ করে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহের বৃদ্ধি বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তা উদ্যোগকে আরও উৎসাহিত করছে। এছাড়া প্রবাসীরা পাঠানো অর্থ দেশের ভোক্তাসামগ্রী, শিক্ষা খাত, স্বাস্থ্যখাত এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে ব্যয় করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, দেশের মুদ্রার সংরক্ষণ এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে রেমিট্যান্সের অবদান অপরিসীম। আরিফ হোসেন খান আরও বলেন, “প্রবাসীদের অব্যাহত সমর্থন দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করি, এই প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সহায়ক হবে।”

বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়, ডিসেম্বরের প্রথম ৯ দিনে প্রাপ্ত ১১৬ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স গত বছরের একই সময়ে প্রাপ্ত ৯৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের তুলনায় প্রমাণ করে দেশের প্রবাসী জনগণ এখনও দেশে অর্থ পাঠানোর জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অর্থনীতিবিদরা বলেন, “রেমিট্যান্স শুধু ব্যক্তিগত পরিবারকে সহায়তা করছে না, বরং জাতীয় অর্থনীতির ভিত শক্ত করছে।”

বর্তমানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এ অর্থ দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে প্রবেশ করে, বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি করে এবং সরকারের অর্থনৈতিক নীতিমালাকে সহায়তা করছে। আরিফ হোসেন খান বলেন, “দেশে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিকতা দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও মুদ্রা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত