প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে দল থেকে পদত্যাগ করেছিলেন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক মহাজোট কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব আশরাফুল ইসলাম সেলিম, পরিচিত নাম কবি সেলিম বালা। এবার একই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হয়ে তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন। তাঁর প্রতীক নির্ধারিত হয়েছে ‘শাপলা কলি’।
বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের জন্য এনসিপি ১২৫ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এই তালিকায় ময়মনসিংহ-৩ আসনে কবি সেলিম বালার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনি অচিন্তপুর ইউনিয়নের মুখোরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য এলাকায় পরিচিত, বিশেষ করে নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সেলাই মেশিন উপহার দেওয়া, অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য এককালীন শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, বাকপ্রতিবন্ধী পরিবারে নলকূপ স্থাপন এবং পঙ্গু ব্যক্তির কর্মসংস্থানের জন্য দোকান নির্মাণের মতো কর্মকাণ্ডে তিনি প্রশংসিত। করোনাকালে নগদ অনুদান ও খাদ্য সহায়তাসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজে তার ভূমিকা স্থানীয় জনগণের কাছে সম্মান অর্জন করেছে।
রাজনৈতিক দিক থেকে দেখা যায়, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন না পাওয়ায় মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন সেলিম বালা। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে তিনি এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তবে গত ৩ নভেম্বর ময়মনসিংহ-৩ আসনে বিএনপি তাদের নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইনকে মনোনয়ন দেয়।
এরপর ২৩ নভেম্বর তিনি জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক মহাজোটের যুগ্ম মহাসচিব পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন এবং সামাজিক মাধ্যমে পদত্যাগপত্র প্রকাশ করেন। তখন থেকেই গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল যে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন। বুধবার ঢাকায় এনসিপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হলে সেই গুঞ্জন বাস্তবে পরিণত হয়।
কবি সেলিম বালা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমি মনোনয়ন না পাওয়ায় দল থেকে পদত্যাগ করিনি। নীতি ও অবস্থানের দিক থেকে বিএনপি যেখানে দাঁড়িয়েছে, সেখানে আমার আস্থা রাখার সুযোগ নেই। তাই সাংগঠনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। এনসিপি আমাদের মতো তরুণ প্রার্থীদের দেশ ও জনসাধারণের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। এজন্য আমি নির্বাচনে যাচ্ছি এবং আশা করি জয় নিয়ে ঘরে ফিরব।”
এভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মিশ্রণ এবং দীর্ঘদিনের জনসংযোগের মাধ্যমে তিনি ময়মনসিংহ-৩ আসনে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। স্থানীয় পর্যায়ে তার জনপ্রিয়তা এবং সামাজিক কাজের প্রভাব ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে।