প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর প্রাচীন নগরী ফেজে ভোরের দিকে দুইটি পাশাপাশি থাকা চারতলা ভবন হঠাৎ ধসে পড়ে। এতে কমপক্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও ১৬ জন আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফেজের আল-মুস্তাকবাল এলাকায় অবস্থিত এই ভবন দুটিতে মোট আটটি পরিবার বসবাস করতেন। স্থানীয় প্রশাসনের সূত্রে জানা যায়, ভবন দুটি দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে ছিল এবং ধসের আগে সেখানে ফাটলের চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল। তথাপি স্থানীয় প্রশাসন প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়। ধসের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল, নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসামরিক সুরক্ষা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এসএনআরটি জানিয়েছে, ধসের ফলে মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে এবং আহতদের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, তারা ধসের ঘটনার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি। এ বিষয়ে মরক্কোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ও কোনও তাৎক্ষণিক মন্তব্য প্রদান করেনি। তবে স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ধসে পড়া ভবনগুলি বহুদিন ধরে ফাটল দেখা যাওয়া সত্ত্বেও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা এ দুর্ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফেজ মরক্কোর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রাচীন নগরী এবং দেশটির জনসংখ্যা, শিল্প ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর অনেক অংশই এখানে কেন্দ্রিত। মরক্কোর অর্থনীতি এবং জনজীবনও এই অঞ্চলের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ভবন ধসের ঘটনায় স্থানীয় জনজীবনে তীব্র প্রভাব পড়েছে, আহত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা শোকাহত।
ঘটনার সঙ্গে যুক্ত উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ধসের সঙ্গে জড়িত ভবনগুলোর মালিকানা এবং নির্মাণ মান যাচাই করা হবে। এছাড়া, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
মরক্কোতে ভবন ধসের ঘটনা দেশটির জন্য নতুন সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে, যেখানে পুরনো এবং সুরক্ষাহীন স্থাপনার কারণে জনজীবনের ওপর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এদিকে, ফেজের স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ধসে পড়া ভবনগুলি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ঘটনার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আরও নিরাপদ ও টেকসই নির্মাণ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।