সাইবার নিরাপত্তা আইন বিলুপ্তির কারণে খারিজ হলো পরীমণির মানহানির মামলা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫
  • ২৭ বার
সাইবার নিরাপত্তা আইন বিলুপ্তির কারণে খারিজ হলো পরীমণির মানহানির মামলা

প্রকাশ: ০৯ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকাই সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী পরীমণি গৃহকর্মী পিংকি আক্তারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানহানির মামলায় আর আইনি লড়াইয়ের সুযোগ পাচ্ছেন না। কারণ, সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল হয়ে যাওয়ার ফলে এবং নবপ্রণীত ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে’ অভিযোগের উপযুক্ত ধারা না থাকায় ট্রাইব্যুনাল মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নূরে আলম মামলাটি খারিজের আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মো. জুয়েল। তিনি জানান, মামলাটি পুরনো সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৮ ও ৩১ ধারায় দায়ের করা হয়েছিল, তবে গত ২১ মে সরকার সেই আইন বাতিল করে নতুন ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ কার্যকর করে। নতুন আইনে ঐ ধারা দুটি অনুপস্থিত থাকায় মামলাটি গ্রহণযোগ্যতা হারায় এবং আদালত তা খারিজ করে দেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৫ মার্চ, যখন পরীমণি একটি ‘এজেন্সি’র মাধ্যমে পিংকি আক্তার নামের এক গৃহকর্মীকে নিজের সন্তানকে দেখাশোনার জন্য নিয়োগ দেন। কিন্তু ২ এপ্রিল পিংকি পরীমণির বাসা ছেড়ে চলে যান এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পরীমণির বিরুদ্ধে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরেন।

পরীমণি পাল্টা অভিযোগ করেন, গৃহকর্মী মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে তার সামাজিক অবস্থান ক্ষুণ্ন করেছেন। একইসঙ্গে অভিযোগ করেন, পিংকির দেওয়া এসব মন্তব্য ও সাক্ষাৎকার প্রচার করে কয়েকটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিষয়টিকে আরও বাড়িয়ে তোলে, যার ফলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং তিনি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হন। এ প্রেক্ষিতে গত ২৩ এপ্রিল তিনি সাইবার নিরাপত্তা আইনের আওতায় মামলা দায়ের করেন।

পরীমণির মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন গৃহকর্মী পিংকি আক্তার ছাড়াও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘সব খবর’-এর স্বত্বাধিকারী মোরশেদ সুমন, ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ ইন্টারটেইনমেন্ট’, ‘পিপল নিউজ’ এবং ‘ডিজিটাল খবর’ নামের তিনটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল, এসব গণমাধ্যম উদ্দেশ্যমূলকভাবে বানোয়াট এবং অশালীন তথ্য প্রচার করে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে একটি নেতিবাচক জনমত তৈরি করেছে।

তবে আদালতের রায়ের ফলে এই মামলায় আর কোনো আইনগত প্রক্রিয়া এগোবে না বলে স্পষ্ট হয়ে গেছে। নতুন সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে পূর্ববর্তী আইনের বেশ কিছু ধারা অন্তর্ভুক্ত না থাকায় আগের আইনে করা মামলাগুলো এখন অনেকে খারিজের মুখে পড়ছে।

এই ঘটনা আবারও তুলে ধরেছে, দেশে আইন পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় কীভাবে বিচারিক প্রক্রিয়ার গতিপথ হঠাৎই বদলে যেতে পারে। একইসঙ্গে এটি ইঙ্গিত দেয়, সমাজে বিতর্কিত এবং আলোচিত ঘটনাগুলোর আইনি সমাধানে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও সময়োপযোগী আইন কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে।

পরীমণি ও পিংকি আক্তারের এ ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ আইনগত জটিলতায় মামলার খারিজকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বললেও, অনেকেই বলছেন নতুন আইনের ব্যাখ্যার অভাব বা অস্পষ্টতা আগামীতে আরও মামলার ক্ষেত্রে প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

এই মামলার পরিণতি নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতের অনেক অনুরূপ আইনি পদক্ষেপে দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে। আইনবিদ ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাইবার অপরাধ দমনে একটি পরিপূর্ণ, নির্ভুল এবং গণমুখী আইন প্রণয়নই এখন সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত