প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি চালানো অপশক্তিকে রুখে দেওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে ‘কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন: দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “ধর্ম একটি সুশৃঙ্খল সমাজ ও নৈতিকতার ভিত্তি। কিন্তু যারা ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করে সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়, তাদের প্রভাব রুখে দিতে হবে। এটি শুধু রাজনৈতিক প্রয়োজন নয়, এটি দেশের সুস্থ সামাজিক পরিবেশ রক্ষারও বিষয়।” তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় চেতনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করলে সমাজে শোষণ, বিভাজন ও অশান্তি তৈরি হয়, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নকে ব্যাহত করে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ। তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও মুক্ত, ফ্যাসিস্ট আমলের মতো জোরপূর্বক ভোট হবে না। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবে এবং এটি নতুন করে একটি প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ গঠনের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এই সংসদই দেশকে উন্নয়নের নতুন দিগন্তে নিয়ে যাবে।”
ফখরুল আরও বলেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক শক্তির দায়বদ্ধতা থাকা উচিত যাতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারে। মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক সকল প্রতিষ্ঠানকে একত্রে কাজ করতে হবে যাতে ধর্ম ও নৈতিকতার মিশ্রণ সঠিকভাবে সংরক্ষিত থাকে এবং রাজনৈতিক অপপ্রয়োগ রোধ করা যায়।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকালে তিনি দেশের যুব সমাজকে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “যুব সমাজ দেশের ভবিষ্যত। তাদেরকে সচেতন, দায়িত্বশীল ও ন্যায়নিষ্ঠ হতে হবে। তারা শুধু ভোট দিতে হবে না, বরং দেশের স্বার্থে সঠিক ও নৈতিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার জন্যও সচেষ্ট হতে হবে।”
ফখরুলের বক্তব্যে বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে ধর্মীয় ভেদাভেদের রাজনীতি প্রতিরোধে এবং জনগণের জন্য একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে। তিনি বলেন, “ধর্মের প্রতি সম্মান রেখে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে দেশ সুস্থ ও সমৃদ্ধির পথে অগ্রসর হবে। ধর্মকে বিভাজন বা ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে তা দেশের শৃঙ্খল ও সাম্যের জন্য হুমকি তৈরি করে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দল সমানভাবে অংশগ্রহণ করবে এবং নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছভাবে দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন, “নির্বাচন শুধু একটি প্রক্রিয়া নয়, এটি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বের প্রতিফলন। এখানে জনগণের মতামত সঠিকভাবে প্রতিফলিত হলে দেশ নতুনভাবে এগোতে পারবে।”
ফখরুলের বক্তব্যে বোঝা যায় যে, বিএনপি দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ধর্মের অপব্যবহার প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার ওপর গুরুত্বারোপ করছে। তিনি জনগণকে আহ্বান জানিয়েছেন, ধর্মকে বিভাজন বা রাজনৈতিক প্রভাবের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে এবং দেশের জন্য দায়িত্বশীল ও ন্যায়নিষ্ঠ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, ধর্ম ও রাজনীতির সম্পর্ক সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। রাজনৈতিক নেতাদের উচিত ধর্মের পবিত্রতা রক্ষা করা এবং দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভ্রান্তি সৃষ্টি থেকে বিরত থাকা।