গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ৭০ হাজার ছাড়ালো

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪৩ বার
গাজায় ইসরাইলি হামলা

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরাইলের বর্বর হামলা অব্যাহত রয়েছে, যার কারণে মৃতের সংখ্যা ৭০ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে নিহতের মধ্যে অনেক নারী ও শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন এক লাখ ৭১ হাজার ৬৪ জন। গত ১০ অক্টোবর থেকে চলমান যুদ্ধবিরতি বাস্তবে কার্যকর হয়নি, এবং ইসরাইল বারবার এই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির ৬০ দিনে ৭৩৮ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল। এই সময়ে হামলায় কমপক্ষে ৩৮৬ জন নিহত এবং ৯৮০ জন আহত হয়েছেন। ত্রাণ প্রবেশেও ইসরাইল নানা ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ৬০০ ট্রাক ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি পেয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপে ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিনিময়ে ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তি, গাজার পুনর্গঠন এবং নতুন শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিল।

এদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গাজার মানুষ এখন মানবিক সংকটে ভুগছে। খাবার, পানি, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ঘাটতি মারাত্মক। বহু পরিবার উপত্যকার বিভিন্ন অংশে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে। শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক কমিউনিটি গাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে ত্রাণ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সংকট আরও গভীর হচ্ছে। বহু শিশু ও নারী এখন শীত ও ক্ষুধার মধ্যে জীবনযাপন করছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরাইলকে অবিলম্বে ত্রাণের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এ ছাড়া গাজায় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত। চলমান সংঘর্ষে বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ নষ্ট হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা সীমিত সরঞ্জাম নিয়ে চেষ্টা করছেন আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, দৈনিক কমপক্ষে কয়েকশো আহত ব্যক্তি হাসপাতালে আসছে এবং চিকিৎসা কার্যক্রম সীমিত।

ফিলিস্তিনের মানুষ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সহায়তার জন্য আকুল আহ্বান জানাচ্ছে। তারা চায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হোক এবং গাজার সাধারণ মানুষ নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান সহিংসতা ও মানবিক সংকট অব্যাহত থাকলে গাজার পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসন দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থগিত থাকবে। তাই আন্তর্জাতিক চাপ ছাড়া ইসরাইলি হামলা বন্ধ করা সম্ভব নয়।

গাজার মানবিক সংকট এবং ইসরাইলি হামলার পরিধি এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার বিষয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান সংঘর্ষ ও চুক্তি লঙ্ঘনের ফলে লাখো নিরীহ ফিলিস্তিনি জীবন ও জীবিকার জন্য ঝুঁকিতে রয়েছে। শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি বিঘ্নিত হচ্ছে।

মানবিক সহায়তা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা গাজার পরিস্থিতি তদারকিতে তৎপর রয়েছেন। তবে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী সীমিত সংখ্যক ত্রাণ ও সাহায্য পৌঁছাচ্ছে। ফলে স্থানীয় মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়, খাবার ও চিকিৎসার জন্য কঠোর সংগ্রাম করতে হচ্ছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সহিংসতার কারণে মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। নিহতদের মধ্যে নারীর সংখ্যা প্রায় ২৭ শতাংশ এবং শিশুর সংখ্যা ৩৫ শতাংশ। আহতদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন রয়েছে।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, গাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে তবেই হাজার হাজার ফিলিস্তিনির জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত