জুলাই হত্যাকাণ্ডে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিচ্ছেন সাদিক কায়েম

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪৮ বার
ভিপি সাদিক কায়েম

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জুলাই বিপ্লবের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলায় সাক্ষ্য দিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়েছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে তিনি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হন, যেখানে তার মুখোমুখি সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য (ভিসি) এএসএম মাকসুদ কামালের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন সাদিক কায়েম। তার জবানবন্দি শুধু মামলার জন্যই নয়, বরং সেই সময়ের ইতিহাস, ছাত্র আন্দোলন এবং সরকারের দমননীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। সাদিক কায়েমের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করেছে।

ডাকসু ভিপি হিসেবে কায়েমের ভূমিকা এবং তিনি যে সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় ছিলেন, তা মামলার প্রেক্ষাপটকে শক্তিশালী করে। তিনি সেই সময়ের ঘটনাবলী, ছাত্র আন্দোলনের আকার, ও বিপ্লবের প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিতভাবে তথ্য দিয়েছেন। কায়েম ট্রাইব্যুনালে জানান, জুলাই বিপ্লবের সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এবং অন্যান্য স্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল, যার প্রমাণ ও সাক্ষী হিসেবে তার উপস্থিতি অপরিহার্য।

ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা ও প্রসিকিউশন দল জানায়, কায়েমের সাক্ষ্য আদালতের প্রক্রিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ দিক থেকে সমৃদ্ধ করছে। আদালত তাঁর তথ্য বিশ্লেষণ করে মূল অভিযুক্তের কার্যক্রম এবং সেই সময়ের শাসকবৃন্দের নীতির প্রভাব বোঝার চেষ্টা করছে। তিনি সাক্ষ্য দেনarken সুনির্দিষ্ট তথ্য, তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করেন, যা মামলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

সাদিক কায়েমের সাক্ষ্য শুধু অভিযোগপত্রের ওপর ভিত্তি না করে, বরং ঘটনার সুনির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট, মানবতাবিরোধী অপরাধের ধরন এবং ছাত্র আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরছে। এই সাক্ষ্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে মামলার বিচার প্রক্রিয়ার জন্য এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

মামলার অন্যান্য সাক্ষীরা জানান, সাদিক কায়েমের উপস্থিতি তাদের জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তিনি যে সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে ট্রাইব্যুনালে তথ্য দিয়েছেন, তা পরবর্তী প্রমাণ এবং অন্যান্য সাক্ষীদের স্বচ্ছতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের আইনজীবীরা মনে করেন, এই ধরনের জবানবন্দি ইতিহাসের নথিভুক্তি হিসেবে কাজ করবে। আগামী দিনে, গবেষক ও ইতিহাসবিদরা এই সাক্ষ্য ব্যবহার করে ২০২৩ সালের জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপট ও মানবতাবিরোধী অপরাধের চিত্র আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারবেন।

এই মামলার প্রক্রিয়া বাংলাদেশে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে মানবাধিকার, আইনি ন্যায্যতা এবং সত্য উদঘাটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাদিক কায়েমের সাক্ষ্য শুধু মামলার জন্যই নয়, বরং ইতিহাসকে সত্যের পথে স্থাপন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত