প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বৃহস্পতিবার একটি বিশাল ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মস্কোতে অন্তত ৪০টি ড্রোনকে নিয়ন্ত্রণ হারানোর আগেই ধ্বংস করা হয়েছে। দেশের অন্যান্য অংশে আরও ২৪৭টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে, যার ফলে মোট ২৮৭টি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এই হামলা রাজধানীসহ মস্কো অঞ্চলের জনসংখ্যার নিরাপত্তার জন্য বড় ধকল সৃষ্টি করেছে, যেখানে প্রায় ২২ মিলিয়ন মানুষ বসবাস করছেন।
মস্কোর প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে স্পষ্ট নয়। তবে বিমান চলাচল ও নগর নিরাপত্তার ওপর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলায় বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতি ঘটেনি এবং বিমানবন্দর ও নাগরিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করার পর থেকে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউক্রেনের ড্রোন এবং মিসাইল হামলা রাশিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে কার্যকরভাবে ক্ষতি করছে। বিশেষ করে রাশিয়ার এনার্জি খাত, তেল রিফাইনারি ও তেল পরিবহন কেন্দ্রগুলো ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। রাশিয়ার স্বতন্ত্র তেল পরিবহন ও বন্দরের কার্যক্রম প্রায়ই ইউক্রেনি ড্রোন আক্রমণের কারণে ব্যাহত হচ্ছে।
একজন ইউক্রেনি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বুধবার একটি ড্রোন ব্যবহার করে ব্ল্যাক সি অঞ্চলের নভোরোসিয়েস্ক বন্দরের দিকে যাচ্ছিল একটি ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করা হয়েছে। এই হামলার কারণে সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক চলাচলও প্রভাবিত হয়েছে। জাহাজ মালিক এবং বীমাকারীরা এখন দৈনন্দিন নীতিমালা পুনর্মূল্যায়ন করছেন, কারণ ড্রোন হামলা ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ঝুঁকি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে চলমান সংঘাত সমুদ্রপথ এবং বাণিজ্যিক পরিবহনেও প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে ব্ল্যাক সি অঞ্চলের জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে পড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারেও এ অঞ্চলের তেল পরিবহনে ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাশিয়া বারবার জানিয়েছে যে, ইউক্রেন এই হামলার মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক এবং সামরিক কার্যক্রমে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।
দক্ষিণপন্থী বিশ্লেষকরা বলছেন, মস্কোতে এই হামলা মূলত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা পরীক্ষা করার পাশাপাশি ইউক্রেনের সামরিক কৌশলের অংশ। ইউক্রেন ছোট আকারের ড্রোনের মাধ্যমে বড় আক্রমণ চালিয়ে রাশিয়ার অর্থনীতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও তাদের সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ড্রোনগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে এই সংঘাত এখনও স্থিতিশীল সমাধানে পৌঁছায়নি। রাশিয়া নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং মস্কোসহ অন্যান্য শহরে ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা বৃদ্ধি করেছে। নাগরিকদের সতর্ক করার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে এবং বিমান চলাচল ও শহর ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উভয় পক্ষের সামরিক কর্মকাণ্ডের ফলে নাগরিকদের নিরাপত্তা, অবকাঠামোগত স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর প্রভাব পড়ছে। ড্রোন হামলার মাধ্যমে ইউক্রেন রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষতি করছে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষা করছে, যা ভবিষ্যতের কৌশলগত যুদ্ধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইউক্রেনি ড্রোন হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার সামরিক এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সামরিক কৌশল, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার দিক থেকে এই হামলার গুরুত্ব অপরিসীম। এছাড়া, সমুদ্রপথ এবং এনার্জি সরবরাহে এর প্রভাবও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।
উভয় পক্ষই এই সংঘাতের অব্যাহতিপ্রতি সতর্ক। মস্কোতে ড্রোন ধ্বংস করলেও, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই সংঘাতকে নজরদারি করছে, কারণ এ ধরনের হামলা সমুদ্রপথ, বাণিজ্যিক পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলে।