কাদের মোল্লাকে স্মরণ করলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭৬ বার
সুদানে শান্তির মিশনে রক্তঝরা দিন, ৬ শহীদের শোকাহত বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জামায়াত ইসলামীর তদানীন্তন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, সাংবাদিক ও লেখক আবদুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদিবসকে কেন্দ্র করে তাকে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। শাহাদাতের বার্ষিকীতে বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি আবদুল কাদের মোল্লার রাজনৈতিক, সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবদানের কথা তুলে ধরেন এবং তার মৃত্যুকে ‘অন্যায় ফাঁসি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তাঁর ভাষ্যে, আবদুল কাদের মোল্লা শুধু রাজনৈতিক কর্মীই ছিলেন না; ছিলেন একজন নিবেদিত শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক ও লেখক, যিনি দীর্ঘ সময় বাংলাদেশে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগ্রাম করে গেছেন। নব্বইয়ের দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি লিয়াজোঁ কমিটির দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের পক্ষে সরব ভূমিকা রাখেন। লেখালেখির মাধ্যমে মানুষের চেতনা জাগ্রত করতে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য—যা তাকে ‘কলম সৈনিক’ পরিচয়ে বিশেষভাবে পরিচিত করে।

ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বিবৃতিতে দাবি করেন, আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ১৩ জুলাই যে মামলা দায়ের হয়, তা ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণার পর শাহবাগে গঠিত গণজাগরণ মঞ্চের দাবির মুখে আইন সংশোধন করে রাষ্ট্র পক্ষ পুনর্বিবেচনার সুযোগ পায়, যার ভিত্তিতে তাকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়। তাঁর বক্তব্য, আপিলের সুযোগ না দিয়েই ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর রাতে ফাঁসি কার্যকর করা হয়, যা ছিল বিচার প্রক্রিয়ার গুরুতর প্রশ্নবিদ্ধ দিক।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রিভিউ আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আগেই ফাঁসি কার্যকর হওয়া ছিল অস্বাভাবিক ও তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত। তাঁর মতে, এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে, আবদুল কাদের মোল্লা বিচার নয় বরং একটি ‘নির্মম প্রহসনের শিকার’ হয়েছেন। তবে তিনি দাবি করেন, ফাঁসি কার্যকর হওয়ার মুহূর্তেও আবদুল কাদের মোল্লা দৃঢ় আদর্শিক অবস্থানে ছিলেন এবং ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের প্রতি তার শেষ আহ্বান ছিল সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করা।

বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, শহীদ কাদের মোল্লা তাঁর জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ইসলামী আদর্শের পক্ষে ব্যয় করেছেন। মৃত্যুর আগে তিনি বলেন—“আমাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে, আর আমার রক্ত ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের আরও দৃঢ় করবে।” এই বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাঁর শাহাদাত মুসলিম সমাজে নতুন অনুপ্রেরণা তৈরি করেছে এবং তার অনুসৃত আদর্শ থেকেই আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও জানান, জামায়াত ইসলামীর সদস্যরা কাদের মোল্লার অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে। একইসঙ্গে তিনি দলের সদস্য ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান, আবদুল কাদের মোল্লার স্বপ্নের ‘ইসলামী সমাজ’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করে যেতে।

অন্যদিকে রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিশ্লেষকরা দীর্ঘদিন ধরেই এই বিচার, রায় ও ফাঁসি নিয়ে নানা মতামত তুলে ধরে আসছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এ রায় ও তার বাস্তবায়ন নিয়ে সময়ে সময়ে প্রশ্ন উঠেছিল। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কিছু অংশ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সরকার সব সময়ই বলেছে যে এ বিচার ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া এবং তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে এ মামলা ও বিচার এখনও বাংলাদেশের রাজনীতি, বিচারব্যবস্থা, মানবাধিকার আলোচনা এবং ইতিহাসচর্চায় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

আবদুল কাদের মোল্লা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। একদিকে তাকে অনেকে বুদ্ধিজীবী, লেখক ও সংগঠক হিসেবে মূল্যায়ন করে থাকেন; অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ, বিচার ও ফাঁসি তাকে ঘিরে তৈরি করেছে গভীর মতবিভাজন। তার মৃত্যু–বার্ষিকী ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যে আলোচনা নতুন করে তীব্র হয়, তার প্রতিফলন ছিল জামায়াত আমিরের এই স্মরণবাণীতেও।

দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান মতপার্থক্য ও দ্বন্দ্ব, বিচারব্যবস্থাকে ঘিরে বিতর্ক এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার–সংক্রান্ত জনমতের ভিন্নতা—সব মিলিয়ে আবদুল কাদের মোল্লার বিষয়টি এখনও বহুমাত্রিক আলোচনার জন্ম দেয়। তার জীবন ও বিচার শুধু একটি রাজনৈতিক সংগঠনের বিবৃতি নয়; বরং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি বড় অধ্যায়, যা আজও প্রাসঙ্গিক।

বিবৃতির শেষে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা শহীদ কাদের মোল্লার আদর্শকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে চাই। তিনি যে সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নে আমাদের সংগ্রাম চলবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত