প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকার ডেমরা কোনাপাড়া এলাকায় সিটি করপোরেশনের একটি ময়লার গাড়ির ধাক্কায় দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত হওয়ায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার ভোর চারটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, নিহতরা মোটরসাইকেলে করে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। ঘটনাস্থলে থাকা সিটি করপোরেশনের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের উপর ধাক্কা দেয়।
ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, নিহতরা তাদের পড়াশোনার পাশাপাশি বন্ধু ও সহপাঠীদের মধ্যে অত্যন্ত আনন্দময় চরিত্রের জন্য পরিচিত ছিলেন। নিহতদের মধ্যে ইরাম দেওয়ান (২৬) বেসরকারি আইএইউবি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন, আর তপু আহম্মেদ (২৫) ইউআইইউ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, “দুর্ঘটনার সময় শিক্ষার্থীরা মোটরসাইকেলে ছিল। সিটি করপোরেশনের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের চাপা দেয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে, কিন্তু তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সত্ত্বেও তাদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।”
ডেমরা থানা পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘাতক গাড়িটি জব্দ করেছে এবং গাড়ির চালককে সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ময়লার গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে এই দুঃখজনক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ এবং সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।
নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে এ ঘটনা নিয়ে শোকসভা ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বন্ধুরা বলেন, তারা একদমই চমৎকার মানুষ ছিল এবং তাদের হারানো শিক্ষা ও বন্ধুত্বে একটি শূন্যস্থান সৃষ্টি করেছে।
ঢাকা শহরের ব্যস্ত সড়কগুলোতে প্রতিদিনই নানা ধরনের যানজট ও দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিটি করপোরেশনের গাড়ি ও বড় যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর নিয়ম এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা দরকার। এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শহরের সড়কগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সিটি করপোরেশনও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছেন, তদন্তের মাধ্যমে দায়িত্বশীলদের সনাক্ত করা হবে এবং একই ধরনের দুর্ঘটনা পুনরায় না ঘটানোর জন্য নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রশাসনের দায়িত্বশীল পদক্ষেপ ছাড়াই শহরের সড়ক নিরাপদ রাখা সম্ভব নয়।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এই দুর্ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করছেন। তারা দাবি করছেন, শহরের যানবাহন চলাচলের নিয়ম কঠোর করা ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আবশ্যক।
এই দুর্ঘটনা শুধু দুই পরিবারকে নয়, সমগ্র শিক্ষার্থী সমাজ এবং ঢাকার সাধারণ মানুষকে একটি সতর্কবার্তা দিয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা ও যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা না হলে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা কঠিন হবে।
ঢাকা শহরের যানজট ও যানবাহনের তীব্র চাপের মধ্যে সিটি করপোরেশনের গাড়ির মতো বড় যানবাহনের সঙ্গে মোটরসাইকেল বা ছোট যানবাহনের সংঘর্ষের ঝুঁকি সবসময় থাকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে শহরের সড়ক ব্যবস্থাপনায় পুনর্বিবেচনা জরুরি।
নিহত দুই শিক্ষার্থীর স্মৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিভিন্ন কর্মসূচি ও শোকসভা আয়োজন করেছে। তারা বলেছেন, শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হত যদি সিটি করপোরেশনের গাড়ি পরিচালনায় বেশি সতর্কতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হতো।
ঢাকা শহরের সড়ক ব্যবস্থাপনা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের ওপর মানুষের দৃষ্টি এখন আরও কড়া। এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আইনগত পদক্ষেপ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।
এই দুর্ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, শহরের দ্রুত বর্ধনশীল যানবাহন চাপের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ এবং যানবাহনের নিরাপত্তা বজায় রাখা কতটা জরুরি। সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল পদক্ষেপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ট্র্যাজেডি রোধ করা সম্ভব।