ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে বাস খাদে পড়ে ৯ নিহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৫ বার
ভারতের বাস খাদে পড়ে নিহত ৯

প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের আল্লুরি জেলায় এক পাহাড়ি এলাকায় একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে নয়জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে ৩৫ জন যাত্রী, দুই চালক এবং একজন ক্লিনার ছিলেন। জেলা কালেক্টর জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে বাসের যাত্রীরা সরাসরি প্রাণ হারিয়েছেন, আর সাতজনকে উদ্ধার করে চিন্তুরের সিএইচসি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে আহতদের ভদ্রাচলমে স্থানান্তর করা হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনা ঘটেছে পাহাড়ি, অরণ্যঘেরা গিরিপথে। বাসটি বাঁক নিতে গিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে খাদে পড়ে খাড়া ঢাল বেয়ে নিচে গড়িয়ে যায়। বাস চালক ঘন কুয়াশার কারণে গিরিপথের বাঁক দেখতে পাননি, যার ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুত খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাত্রীদের উদ্ধার ও আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর কাজ শুরু করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় আতঙ্কের ছায়া ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রীরা চিৎকার করতে থাকেন, আর অনেকেই বাস থেকে বের হতে চেষ্টা করছিলেন। পাশের এলাকায় বসবাসরত লোকজন ও পুলিশ দ্রুত উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারকে প্রত্যেককে দুই লাখ রুপি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া আহতদের প্রত্যেকে ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুও দুর্ঘটনার শোক প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনার কারণ ও বিস্তারিত পরিস্থিতি তদন্ত করছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, খাড়া পাহাড়ি পথে ঘন কুয়াশা এবং রাস্তার সংকীর্ণতা প্রধান কারণ হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত বাসটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, অন্ধ্রপ্রদেশের পাহাড়ি এলাকা সড়ক দুর্ঘটনার জন্য পরিচিত। পাহাড়ি গিরিপথে নিয়ন্ত্রণ হারানো বাস, ট্রাক বা ছোট যানবাহন নিয়মিতভাবে দুর্ঘটনার শিকার হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে ঘন কুয়াশা ও কম দৃশ্যমানতার কারণে পাহাড়ি এলাকায় যান চলাচলে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় জনগণ গভীর শোকের ছায়ায় আছে। তারা বলছেন, পাহাড়ি এলাকার সড়কগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। দুর্ঘটনার তীব্রতা কমাতে দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।

এ ধরনের দুর্ঘটনা শুধুমাত্র স্থানীয় জনগণের জন্য নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানের যাত্রীদের জন্যও সতর্কবার্তা। পাহাড়ি এলাকা ঘুরে যাওয়া বা যাত্রী পরিবহনে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল আচরণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া, দুর্ঘটনার পর হতাহতদের চিকিৎসা, ত্রাণ এবং আর্থিক সহায়তা দ্রুত প্রদান করা হলে প্রভাবিত পরিবার ও স্থানীয় জনগণকে সহায়তা পাওয়া যায়।

স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল মিলিতভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। তবে দুর্ঘটনার প্রভাব এবং সঠিক পরিসংখ্যান পরবর্তী তদন্ত শেষে জানানো হবে। এই দুর্ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, পাহাড়ি এলাকায় যাত্রী পরিবহনে নিরাপত্তা এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত