রাশিয়ার তেল আমদানি বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা নিল নয়াদিল্লি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৩ বার
মোদি সরকারের নতুন রাশিয়া তেল কৌশল

প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারত নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে। ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার তেল বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও ভারত এসব চাপ উপেক্ষা করে মস্কো থেকে সস্তা অপরিশোধিত তেল কিনতে নতুন পথ অনুসরণ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন, কিন্তু নয়াদিল্লি এই অনুরোধকে গুরুত্ব দেননি।

গত সপ্তাহে দিল্লিতে ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকে পুতিন নিশ্চিত করেন, রাশিয়া ভারতকে তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত। চীনের পর রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করার ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা। এর ওপর ট্রাম্প প্রশাসন বারবার চাপ প্রয়োগ করেছে। চলতি বছরের শুরুতে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এই চাপ প্রয়োগ করে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরু করার আগে ভারতের রাশিয়া থেকে তেলের আমদানির পরিমাণ মোট আমদানির মাত্র দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ ছিল। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে শুরু করে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেল, বিমান চলাচলসহ অন্যান্য খাতে ২১ হাজারের বেশি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

এছাড়াও, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে জি-৭, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অস্ট্রেলিয়া রাশিয়ার তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারে সীমিত করে। পরে ইউরোপ ও ব্রিটেন এই সীমা প্রায় ৪৮ ডলারে নামিয়ে দেয়। ফলে রাশিয়ার তেল ভারত ও চীনের জন্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ভারতের জন্য এটি মূলত সস্তা পানির দামে তেল কেনার সুযোগ তৈরি করে। ২০২২ সালের মার্চে এই দাম ব্যারেলপ্রতি মাত্র ৩৫ ডলার পর্যন্ত নেমেছিল, যা বিশ্ববাজারের তুলনায় অত্যন্ত কম।

ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনার পেছনে মূল কারণ হলো সাশ্রয়ী দামে জ্বালানি নিশ্চিত করা। ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাশিয়া থেকে ভারত ৫.৮ বিলিয়ন ডলারের তেল কিনেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেলের জাহাজ ও সংস্থাগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে আমদানি কিছুটা কমে ৩.৯ বিলিয়ন এবং ৩.২ বিলিয়ন ডলারে নেমে যায়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পুনরায় ভারত ৩.৬ বিলিয়ন ডলারের তেল আমদানি করে।

নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ভারত রাশিয়ার তেল কেনা কিছুটা কমিয়েছে, তবে এখনও ভারত দৈনিক ১.৬–১.৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল কিনতে সক্ষম। ভারতের আমদানির প্রায় ৬০ শতাংশ আসে রোসনেফ্ট ও লুকোয়েল কোম্পানি থেকে, যা রাশিয়ার সরকারি সংস্থাগুলোর অন্তর্ভুক্ত। তবে এসব সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হওয়ায় ভারতের জন্য বিকল্প পথ খুঁজে নিতে হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের এই কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের চাপ উপেক্ষা করে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখার অংশ। রাশিয়ার তেলের ওপর সস্তা মূল্যে নিয়ন্ত্রণ ভারতের অর্থনীতি ও জ্বালানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ভারতের মোদি সরকার রাশিয়ার তেল কেনায় নতুন ব্যবসায়িক কৌশল অবলম্বন করে মার্কিন শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেল ব্যারেলপ্রতি ৬২.৫০ ডলারের কাছাকাছি বিক্রি হলেও ভারত রাশিয়ার তেল তুলনামূলকভাবে কম দামে কিনছে।

উপসংহারে বলা যায়, ভারতের নতুন কৌশল রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রয়েছে। ভারতের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মাঝেও স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত