অবসর ভেঙে জাতীয় দলে ফেরার কারণ জানালেন ডি কক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৮ বার

প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রোটিয়া উইকেটরক্ষক ব্যাটার কুইন্টন ডি কক অবসর নেয়ার চার বছর পর আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে এসেছে। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলার পর সাদা বলের ক্রিকেটে বিদায় জানান এই ব্যাটার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটবিশ্বে তার হঠাৎ অবসরের সিদ্ধান্তে অনেকেই অবাক হলেও, ডি ককের ফেরার বিষয়টি আরও চমকপ্রদ।

অক্টোবরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন করেন ডি কক। টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ফিরে আসার পর গত মাসে ওয়ানডে ম্যাচও খেলেছেন তিনি। প্রধান কোচ শুকরি কনরাড তাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘কুইনি একধরনের রহস্য, এখনও তাই।’ তবে এবার ডি কক নিজেই তার অবসরের পেছনের কারণ ও ফেরার অনুপ্রেরণা উন্মোচন করেছেন। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বিধ্বংসী ইনিংস খেলার পর তিনি জানান, ‘অবসরের আগে দলের জন্য ম্যাচ জেতানোর ক্ষুধা হারিয়েছিলাম। মাঠের বাইরে কাটানো সময়টা সেই ক্ষুধা ফিরিয়ে এনেছে।’

ডি কক বলেন, তরুণ বয়সে ক্রিকেটারদের মূল লক্ষ্য ছিল শুধু রান করা এবং দলের মধ্যে জায়গা পাকা করা। এখন নতুন উদ্যম নিয়ে মাঠে নামেন, এবং প্রতিটি ম্যাচ জেতার জন্য লড়াই করেন। তিনি আরও বলেন, ‘দশ বছরের বেশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার পর আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। সেই বিরতি আমার জন্য দরকার ছিল। এখন ফিরে এসে দলের জন্য অনেক শক্তি ঢালতে পারছি। মানসিকভাবে এবং শারীরিকভাবে আরও ফিট লাগছে। আগের মতো অবসন্ন নই। আমি খুশি এবং দলের জন্য আরও অনেক কিছু দিতে চাই।’

ফেরার পর ডি কক টিমে তার পুরনো রূপেই ফিরে আসেন। টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে মাত্র ৫৭ বলে ৯০ রান করেছেন, যেখানে ছিল ৭টি ছক্কা এবং ৫টি চারের মার। যদিও এর আগে পাঁচ ম্যাচে পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। ভারতের প্রথম ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর তিনি জানান, ‘আমি প্রথম দুই–তিন বল ঠিকভাবে সামলাতে চেয়েছিলাম, বিশেষ করে আর্শদীপ বা বুমরার মতো বোলারের বিপক্ষে। ঢিলেঢালা ব্যাটিং করলে তারা সহজেই আপনাকে আউট করবে।’

ডি কক মনে করেন, অবসর নেওয়া এবং তারপরে ফেরার সিদ্ধান্ত তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের দীর্ঘায়ন ঘটিয়েছে। বিরতির কারণে মানসিক ও শারীরিকভাবে নতুন শক্তি ফিরে এসেছে, যা তাকে আরও ধারাবাহিকভাবে দলের জন্য অবদান রাখতে সাহায্য করছে। তার এই ধরণে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে যারা দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করে থাকেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আগে অনেক সময় মনে হতো, সিরিজ বারবার খেলতে হবে এবং ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলতে মাঠে ওঠা কঠিন। কিন্তু এখন সেই বাধা আর নেই। খেলতে নামার আগ্রহ ও উদ্দীপনা নতুনভাবে ফিরে এসেছে।’ তার ফেরা শুধুমাত্র ব্যাক্তিগত নয়, দলের জন্যও শক্তি যোগ করেছে।

ডি ককের এই প্রত্যাবর্তন দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের জন্য বড় সুবিধা এনে দিয়েছে। তার অভিজ্ঞতা, ব্যাটিং দক্ষতা এবং উইকেটরক্ষণের নৈপুণ্য দলকে আরও শক্তিশালী করেছে। কোচ শুকরি কনরাডও মনে করেন, ডি ককের নতুন উদ্যম পুরো দলের মনোবল বাড়িয়েছে।

ফলে, কুইন্টন ডি ককের অবসরের পেছনের মনস্তাত্ত্বিক এবং শারীরিক কারণগুলো স্পষ্ট হয়ে গেছে। মাঠে তার নতুন উদ্যম, অভিজ্ঞতা এবং আগের চ্যালেঞ্জের তুলনায় নতুন প্রেরণা তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরায়, যা তার ক্যারিয়ারের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত