প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি শুক্রবার রাজধানীর বিজয়নগরের কালভার্ট এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণাকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন। আহত প্রার্থীর অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোশকাত আহমেদ জানান, হাদির মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ফলে তিনি বর্তমানে কোমায় রয়েছেন।
ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত সূত্র জানিয়েছে, দুপুর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে তিনটি মোটরসাইকেলে করে দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে।其中 একটি মোটরসাইকেল থেকে সরাসরি হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় এবং হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ পুলিশের ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক ঘটনার প্রাথমিক তথ্য নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন, আহত প্রার্থীকে অবিলম্বে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিকেলে আহত প্রার্থী হাদিকে দেখতে হাসপাতাল যাচ্ছেন। এনসিপির মুশফিক উস সালেহীন সাংবাদিকদের জানান, নাহিদ ইসলাম হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে হাদির অবস্থা এবং চিকিৎসা কার্যক্রমের বিষয়ে তদারকি করবেন। এ ছাড়া, রাজনৈতিক সহকর্মীরা আহত প্রার্থীর পাশে থেকে দোয়া ও সমর্থন জানিয়েছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, আমরা ঘটনাস্থলে তদন্তের জন্য দল পাঠিয়েছি। হামলাকারীদের শনাক্তকরণ ও গ্রেফতারের জন্য সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য সংগ্রহসহ অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। তিনি বলেন, নির্বাচনী পরিবেশে এমন সহিংসতা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনবে।
ওসমান হাদির ওপর পূর্বেই বিভিন্ন হুমকি দেওয়া হয়েছিল। জানা গেছে, তাকে ফোনকল ও মেসেজের মাধ্যমে হত্যা হুমকি, বাড়িতে আগুন দেওয়ার হুমকি এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর আঘাতের ভয় দেখানো হয়েছিল। এই ধরনের পরিস্থিতি নির্বাচনী প্রচারণার নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করেছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং নাগরিকরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন। আহত প্রার্থীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে রাজনৈতিক নেতারা ও সাধারণ মানুষ সামাজিক মাধ্যমে সমর্থন জানিয়েছেন।
ঘটনার পর বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনগুলোও শোক প্রকাশ করেছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং এনসিপি নেতারা দোষীদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় প্রার্থীর পরিবার ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তারা চান, প্রশাসন নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করবে। চিকিৎসকরা হাদির অবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছেন এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
হাদির এই গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ন বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যে কোনো সহিংস প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। নাগরিকরা আশা করছেন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলো যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে নির্বাচনী প্রচারণাকে নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করবে।