প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরের কালভার্ট এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত প্রার্থীকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় দেশব্যাপী রাজনৈতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং বিএনপি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলা সুদূরপ্রসারী ও পরিকল্পিত। নির্বাচনী পরিবেশকে অব্যবস্থাপিত করার জন্য একটি শক্তিশালী নীলনকশা বাস্তবায়িত হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘‘দেশের একটি চক্র সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভীতি সৃষ্টি করে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও নির্বাচনী পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করা।’’
বিবৃতিতে বিএনপি উল্লেখ করেছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র ও জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে অর্জিত বিজয়কে বাধাগ্রস্ত করতেই কিছু কুচক্রী মহল নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। দেশের মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে দলটি বলেছে, এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপে কেউ সাড়া দিলে, তা দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা বিপন্ন করতে পারে।
শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রেক্ষিতে বিএনপি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছে। দলটি একইসঙ্গে আহত প্রার্থীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষার জন্য দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, যাতে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম দেশের অস্তিত্বকে বিপন্ন করতে না পারে।’’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় এই ধরনের হামলা রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিরাপত্তা ও নির্বাচনী অবাধ পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপির বিবৃতির মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে, নির্বাচনী পরিবেশে সহিংসতা ও সন্ত্রাস কোন অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎপর রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারীদের পরিকল্পিতভাবে ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবৃতি ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করা হচ্ছে।
হাদির পরিবারের সদস্যরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তারা আশা করছেন প্রশাসন দ্রুত সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং আহত প্রার্থীর নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করবে। রাজনৈতিক সহকর্মীরা হাসপাতালে উপস্থিত থেকে দোয়া ও সমর্থন জানিয়েছেন। আহত প্রার্থীর সুস্থতার জন্য দেশের রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ জনগণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমর্থন প্রকাশ করেছেন।
এ ঘটনায় জনগণ এবং রাজনৈতিক মহল আশা করছে, প্রশাসন দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করবে। বিএনপির বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সন্ত্রাস ও হিংস্র কর্মকাণ্ড দ্বারা কেউ নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।