প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সোমবার দেশব্যাপী সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে সম্পূর্ণভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়, তাই রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, ভোটার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। সিইসি বলেন, “ভোটাররা যাতে তাদের ভোটাধিকার সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগ করতে পারে, সেটা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। তবে এটি কেবল কমিশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়, সকলের সহযোগিতা দরকার।”
সিইসি নাসির উদ্দিন এসময় দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখ্যপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় নির্বাচনের নিরাপত্তা বা বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রভাবিত করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি জনসাধারণের উদ্দেশে আহ্বান জানান, “নির্বাচনকে ঘিরে দুশ্চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং ভোটাররা সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে সক্ষম হবেন।”
সিইসির এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে গুরুত্ব বহন করছে। এর মাধ্যমে তিনি ভোটারদের সচেতন ও নিরপেক্ষ থাকতে উদ্বুদ্ধ করেছেন, একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়িত্বশীল আচরণের বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভোটগ্রহণের দিন জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে হবে এবং কোনো প্রকার বিভ্রান্তি বা সহিংসতা রোধ করতে প্রশাসন সজাগ থাকবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই ভোট কেন্দ্র, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সকল প্রক্রিয়ার তদারকি নিয়ে সমন্বয় করেছে। ভোটাররা যাতে কোনো অসুবিধা ছাড়া তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য কমিশন প্রস্তুত। একই সঙ্গে সিইসি নাগরিকদের প্রতিশ্রুতি দেন যে, ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকবে এবং ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সকল ধরনের প্রণালী অনুসরণ করা হবে।
সিইসির বক্তব্যে রাজনৈতিক সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ভোটাররা রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে না পারলে গণতন্ত্রের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে। তাই সিইসি সকলকে সহানুভূতিশীল এবং সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
এটি দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আসে, যখন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা বিষয়ক চ্যালেঞ্জ উপস্থিত। সিইসি নিশ্চিত করেছেন, কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নির্বাচনের পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারবে না। দেশের জনগণকে ভোট দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা এবং নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এই সময়ের প্রধান লক্ষ্য।
সিইসি নাসির উদ্দিনের এই আহ্বান শুধু রাজনৈতিক দল এবং ভোটারদের জন্য নয়, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজকেও সচেতন থাকার বার্তা বহন করে। তার মতে, সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া কোনো নির্বাচন পুরোপুরি অবাধ ও সুষ্ঠু হতে পারে না। নির্বাচন কমিশন সরকারের সকল সহযোগিতা, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করছে যাতে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী হয় এবং জনগণের ভোটাধিকার অক্ষুণ্ণ থাকে।
দেশজুড়ে সিইসির এই বার্তা সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিমধ্যেই আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং নাগরিকরা নির্বাচনের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখছে। সিইসি আশা প্রকাশ করেছেন, জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে ভোটের মাধ্যমে তাদের মতামত প্রকাশ করবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি বিশ্বাস বজায় রাখবে।