সুদানে ৬ বাংলাদেশি সেনার মৃত্যুতে নৌ উপদেষ্টার শোক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৮ বার
সুদানে ৬ বাংলাদেশি সেনার মৃত্যুতে নৌ উপদেষ্টার শোক

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশের ছয়জন সাহসী শান্তিরক্ষীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। এই নৃশংস হামলার ঘটনায় তিনি গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি সেনাদের নিরাপত্তা ও তাদের অবদানের প্রতি সর্বোচ্চ সমর্থন জানান।

উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন শহীদ শান্তিরক্ষীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আহত আটজন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। তিনি বলেন, “বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা সবসময় সাহস, পেশাদারিত্ব ও আত্মনিবেদনের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছে। সুদানে কর্তব্যরত অবস্থায় ছয়জন বীর শান্তিরক্ষীর শহীদ হওয়া আমাদের জন্য গভীর বেদনার বিষয়। এ বীর সেনাসদস্যদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।”

নৌপরিবহন উপদেষ্টা আরও বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অত্যন্ত প্রশংসিত। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও মানবতার সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, বিশ্ব শান্তি রক্ষায় নিয়োজিত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা কখনোই তাদের দায়িত্বে কমতি দেখাননি, বরং নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে অনন্য সাহসিকতার নজির স্থাপন করেছেন।

উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন সুদানে চলমান সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এ ধরনের সহিংসতা শুধু মানবিক ক্ষতি ঘটাচ্ছে না, বরং আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষের উচিত অবিলম্বে সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা।”

শান্তিরক্ষীরা শুধু দেশের গর্ব নয়, আন্তর্জাতিক সমাজের শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবেও পরিচিত। সুদানে তাদের শহীদ হওয়া একটি বড় ক্ষতি এবং জাতির জন্য গভীর বেদনার বিষয়। নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, শহীদ সেনাদের আত্মত্যাগ অনন্তকাল ধরে প্রেরণা হিসেবে থাকবে এবং বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনী তাদের অঙ্গীকার ও দায়বদ্ধতায় কখনোও কমতি রাখবে না।

উপদেষ্টা তার শোকবার্তায় আরও বলেন, “বিশ্বশান্তি ও মানবতার সেবায় নিয়োজিত অবস্থায় এই বীর সেনাদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। আমাদের প্রত্যেকের উচিত শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা ও দায়িত্বপূর্ণ কাজের প্রতি সর্বোচ্চ সমর্থন দেওয়া।” তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

সুদানে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি সেনাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়। তারা বিভিন্ন সংকটপূর্ণ অঞ্চলে মানবতার সেবায় নিজেদের জীবন বাজি রেখে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখে আসছে। নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন এই অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি সেনারা সাহস, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাদের আত্মত্যাগ কখনও ম্লান হবে না।”

উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা যেসব ঝুঁকি মোকাবিলা করছে, তাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবার ও জাতিকে আশ্বস্ত করেছেন, “শহীদ সেনাদের অবদান চিরকাল স্মরণীয় থাকবে। তাদের আত্মত্যাগকে আমরা কখনো ভুলব না এবং এদেশের শান্তি রক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

সুদানে ছয় বাংলাদেশি সেনার শহীদ হওয়া দেশের জন্য একটি বড় ক্ষতি হলেও নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, তাদের আত্মত্যাগ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। তিনি দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের কাজের প্রতি সর্বোচ্চ সমর্থন প্রদানে সচেষ্ট হতে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত