নেপালকে ১৩০ রানে অলআউট করে জয় পেল বাংলাদেশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬০ বার
নেপালকে ১৩০ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ যুবাদের জয়

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দুবাইয়ের সেভেন্স স্টেডিয়ামে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ম্যাচে বাংলাদেশের যুবাদের শক্তিশালী বোলিং নেপালের ব্যাটারদের ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত করেছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে রেকর্ড ২৮৪ রানের কঠিন টার্গেট তাড়া করে জয়লাভ করা বাংলাদেশ এই ম্যাচেও একপ্রকার দাপটের পরিচয় দিয়েছে। নেপালকে অলআউট করেছে মাত্র ১৩০ রানে, ফলে জয়টা বাংলাদেশের জন্য ছিল হাতের মুঠোয়।

এই ম্যাচে বাংলাদেশ দলে তিনটি পরিবর্তন এনেছিল। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভালো পারফরম্যান্স দেখানো রিফাত বেগ এবং উইকেটরক্ষক মো. আবদুল্লাহর পাশাপাশি সামিউন বশির দলে ছিলেন না। তাঁদের জায়গায় সুযোগ পেয়েছিলেন ফরিদ হাসান, মো. সবুজ (উইকেটরক্ষক) এবং শাহরিয়া আল-আমিন। নতুন একাদশে খেলোয়াড়দের মধ্যে তরুণদের তোপে শত্রু ব্যাটিংয়ে দারুণ চাপে ফেলে দিয়েছে।

মো. সবুজ ছিলেন নেপালের ব্যাটিংয়ে মূল বিপর্যয়ের কারিগর। তার তোপে নেপালের স্কোরবোর্ড ৫৪/২ থেকে দ্রুত ৮৪/৬-তে দাঁড়ায়। এই ৪ উইকেটের মধ্যে ৩টি নিজের সংগ্রহ করেছেন মো. সবুজ। তিনি মাত্র ৭ ওভারে ২৭ রান খরচ করে নেপালের ব্যাটারদের দমবন্ধিয়ে রাখেন। তার সতীর্থরাও নিয়ন্ত্রিত বোলিং উপহার দিয়েছেন। সাদ ইসলাম, শাহরিয়ার আহমেদ এবং আজিজুল হাকিম যথাক্রমে ২টি করে উইকেট শিকার করেন। বিশেষভাবে শাহরিয়ার মাত্র ১০ রান খরচ করে দুই উইকেট তুলে নেন, যা দলের সাফল্যে বড় অবদান রাখে।

নেপালের ব্যাটিং লাইন-আপের মধ্যে দুই অঙ্কের রান তুলতে পেরেছেন মাত্র চারজন ব্যাটার। সর্বোচ্চ রান এসেছে ৮ নম্বরে নামা অভিষেক তিওয়ারি থেকে, তিনি ৩০ রান করে দলকে সামান্য স্বস্তি দিয়েছেন। এছাড়া আশিষ লুহার করেছেন ২৩, সাহিল প্যাটেল ১৮ এবং নিরাজ কুমার ১৪ রান। এর ফলে নেপাল ৩১.১ ওভারের মধ্যে অলআউট হয়, এবং বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়।

এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল সেমিফাইনালে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় অনেকটাই এগিয়ে যায়। নেপাল এই আসরের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজিত হয়েছিল, ফলে দুই দলের পয়েন্ট এখন সমান, ২টি করে। আফগানিস্তান এখনো পয়েন্ট শূন্যে।

বাংলাদেশ যুবাদের বোলিংয়ের ডেপথ এবং তরুণ খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস এই ম্যাচে বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে। মো. সবুজ, সাদ ইসলাম, শাহরিয়ার আহমেদ ও আজিজুল হাকিমের সমন্বিত বোলিং নেপালের ব্যাটারদের চাপে ফেলে দেয় এবং পরিকল্পিত বোলিংয়ের মাধ্যমে রান তোলা কঠিন করে তোলে। এই ম্যাচে যুবাদের প্রতিটি বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের পারফরম্যান্স ছিল সুনির্দিষ্ট ও আত্মবিশ্বাসী।

এবারের আসরে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। গত দুই আসরেই তারা শিরোপা জিতেছে, ২০২৩ সালে আরব আমিরাতকে হারিয়ে এবং ২০২৪ সালে ভারতকে হারিয়ে। এবারের জয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছানোর পথে তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশ যুবাদের ফিল্ডিংও নজর কাড়ার মতো ছিল। প্রতিটি ক্যাচ, রানের চেষ্টায় বাধা এবং দ্রুত ফিল্ডিং নেপালের ব্যাটারদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে। এই ম্যাচে দেখানো বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ের সমন্বয়ই বড় জয় নিশ্চিত করেছে।

যুবাদের পরবর্তী ম্যাচ ও সেমিফাইনাল প্রতিযোগিতায় তাদের পারফরম্যান্স ক্রীড়াপ্রেমী এবং বিশ্লেষক উভয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। তরুণ খেলোয়াড়দের এই আত্মবিশ্বাস এবং শক্তিশালী দলগত খেলা বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত