সিরিয়ায় মার্কিন নাগরিক হত্যা নিরাপত্তা সদস্যের হাতে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮৬ বার
সিরিয়ায় মার্কিন নাগরিক হত্যা নিরাপত্তা সদস্যের হাতে

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সিরিয়ার মধ্য পালমিরা অঞ্চলে এক ভয়ংকর ঘটনার পর বিশ্ববাসী চমকে উঠেছে। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সিরিয়ার মধ্য পালমিরা অঞ্চলে মার্কিন-সিরিয়া যৌথ বাহিনীর মহড়ার সময় তিন মার্কিন নাগরিক নিহত হন। নিহতদের মধ্যে দুই জন মার্কিন সেনা এবং একজন বেসামরিক দোভাষী রয়েছেন। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছিলেন একজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, যাকে পূর্বেই চরমপন্থার কারণে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

সিরিয়ার সরকার এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসাবে বর্ণনা করেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনায় কড়া প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নুরদ্দীন আল-বাবা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন, হামলার আগে নিরাপত্তা বাহিনীর এই সদস্যকে চরমপন্থী ধারণা পোষণের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

ঘটনার পর সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়। একটি সূত্র জানিয়েছে, হামলার পর সাধারণ নিরাপত্তা বাহিনীর ১১ জন সদস্যকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা বলেন, বন্দুকধারী নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ১০ মাসেরও বেশি সময় ধরে যুক্ত ছিলেন এবং পালমিরায় স্থানান্তরের আগে তাকে বিভিন্ন শহরে মোতায়েন করা হয়েছিল।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সিরিয়া-আমেরিকান যৌথ প্রতিনিধিদল প্রথমে পালমিরা শহর পরিদর্শন করে, তারপর পালমিরার একটি ঘাঁটিতে ফিরে আসার আগে টি-৪ বিমানঘাঁটিতে যায়। সেখানে সিরীয় ও আমেরিকান কর্মকর্তাদের বৈঠকের সময় হঠাৎ গুলি চালানো হয়। এই ঘটনার পর সিরিয়ান ও মার্কিন কর্মকর্তারা তৎক্ষণাৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেন।

গত বছরের ডিসেম্বরে দীর্ঘকালীন সিরিয়ার শাসক বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির পর এই ধরনের ঘটনা এটিই প্রথম। হামলার প্রেক্ষাপট এবং হত্যাকারীর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে পূর্ব পরিচয় নিয়ে তদন্ত চলছে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই হামলাকে গুরুতর ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক অংশীদাররা একযোগে তদন্ত পরিচালনা করছে। হামলার মূল পরিকল্পনাকারী এবং সহায়তাকারীদের খুঁজে বের করা আন্তর্জাতিক মহলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং যৌথ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্বমঞ্চে এই ঘটনা নতুন করে সিরিয়ায় সন্ত্রাসবাদ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। সিরিয়ান নিরাপত্তা বাহিনী, মার্কিন প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক তদন্তকারীরা এখন নিহতদের পরিবারকে ন্যায়সঙ্গত ক্ষতিপূরণ এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত