মরক্কোতে আকস্মিক বন্যায় নিহত ৩৭

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫২ বার
মরক্কোতে আকস্মিক বন্যায় নিহত ৩৭

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মরক্কোর আটলান্টিক উপকূলীয় প্রদেশ সাফি আকস্মিক বন্যায় থমকে গেছে, যেখানে অন্তত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মরক্কোর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ২এম টিভি এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, এক ঘণ্টার ভারী বর্ষণের কারণে সাফির পুরাতন শহরের ঘরবাড়ি, দোকানপাট এবং গাড়ি পানিতে ভেসে গেছে। পাশাপাশি আশেপাশের এলাকার রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, ফলে উদ্ধার তৎপরতা জটিল হয়ে উঠেছে।

মরক্কোর রাজধানী রাবাত থেকে প্রায় ৩৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত সাফি অঞ্চলে এই আকস্মিক বন্যার ফলে স্থানীয় জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়েছে। প্রায় সাত বছরের তীব্র খরার পর এ বছর আটলাস পর্বতমালায় ভারী বর্ষণ ও তুষারপাত দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে পাহাড়ি ঢল শহর ও জনবসতিগুলোতে প্রবল ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করেছে। বন্যার পানি দ্রুত বাড়ার কারণে অনেক মানুষকে তাদের বাড়ি থেকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় আহত হয়ে অন্তত ১৪ জনকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। সরকারি উদ্ধারকর্মীরা এখনও ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়া এলাকায় মানুষের খোঁজে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে, দুর্গত এলাকায় পানির উচ্চতা এবং ভাঙনশীল রাস্তার কারণে উদ্ধারকর্মীরা সঠিকভাবে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে।

স্থানীয় এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, “এই বন্যা সম্পূর্ণ আকস্মিক এবং অতীতে এমন দ্রুতগতির বন্যার কোনো নজির নেই। আমরা যত দ্রুত সম্ভব মানুষকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।” এছাড়া, বন্যায় নিহতদের পরিবার এবং আহতদের সঙ্গে মানসিক সহায়তার জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কাজ করছে।

মরক্কোর অন্যান্য অংশেও ভারী বর্ষণের প্রভাবে নদী ও খালগুলো বন্যার পানি ধরে রাখতে না পারায় স্থানীয় মানুষজনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময়ের খরার পরে ভূ-প্রকৃতির এই পরিবর্তন বন্যার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। শহরের পানি নিস্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতাও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বাড়িয়েছে।

মরক্কোর প্রশাসন ইতিমধ্যেই বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছে এবং সাময়িক আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি সাহায্য ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা করছে। পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাহায্য প্রেরণের মাধ্যমে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

স্থানীয় নাগরিকরা অভিযোগ করেছেন যে, পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণের অভাব বন্যার ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়িয়েছে। অনেক ঘরবাড়ি ও দোকান পানি প্রবাহে ধ্বংস হয়েছে, যেখানে মানুষের জীবনধারণের সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী তলিয়ে গেছে। তারা দ্রুত উদ্ধার ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা চেয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মরক্কোর এই ধরনের আকস্মিক বন্যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, পাহাড়ি নদীর প্রবাহের পরিবর্তন এবং শহরের নগরায়ণজনিত দুর্বল ব্যবস্থার ফলাফল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এবং বর্ষণের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগাম সতর্কতা ও পরিকল্পনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও নজর কেড়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইতিমধ্যেই মরক্কোর সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষ করে বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিশু, নারী ও বয়স্কদের জন্য চিকিৎসা এবং খাদ্য সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

মরক্কোর এই বন্যা মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে এবং তা স্থানীয় প্রশাসন, উদ্ধারকর্মী এবং আন্তর্জাতিক সহায়ক সংস্থাগুলোর জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকা থেকে মানুষকে দ্রুত সরিয়ে নিরাপদ স্থানে আনা এবং ক্ষয়ক্ষতি কাটানোর কাজ এখন প্রধান অগ্রাধিকার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত