প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশে মোবাইল ব্যবহারকারীদের তথ্য নিরাপত্তা ও পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করতে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর আওতায় প্রতিটি মোবাইল ফোন ও ডিভাইসের জন্য অননুমোদিত ব্যবহার এড়াতে এবং বৈধ ব্যবহারকারীর তথ্য নিশ্চিত করতে বিটিআরসি সিস্টেমটি বাস্তবায়ন করবে।
প্রথমে ১৬ ডিসেম্বর এনইআইআর চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নতুন করে এই সিস্টেম চালু করার তারিখ পরিবর্তন করে আগামী ১ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিটিআরসি জানিয়েছে, সময় পরিবর্তনের মূল কারণ হলো সিস্টেমের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি ও ব্যবহারকারীদের তথ্য যাচাই প্রক্রিয়াকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করা।
বিটিআরসি জানিয়েছে, এনইআইআর সিস্টেম চালু হলে প্রতিটি মোবাইল ফোনের আন্তর্জাতিক মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি (IMEI) নম্বর নিবন্ধন করা হবে। এটি মোবাইল ডিভাইস চুরি বা অননুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে দেশে মোবাইল ব্যবহারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং বৈধ ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষিত থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এনইআইআর সিস্টেম চালু হওয়া বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম খাতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে শুধুমাত্র ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে না, পাশাপাশি মোবাইল চুরি, প্রতারণা ও অননুমোদিত সিম ব্যবহারও হ্রাস পাবে। তবে, সিস্টেমের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সচেতনতা ও ব্যবহারকারীদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
বিটিআরসি আশা করছে, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ব্যবহারকারীরা তাদের মোবাইল ফোনের তথ্য নিবন্ধন করতে পারবে। ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য মোবাইল অপারেটররা বিভিন্ন অনলাইন ও অফলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করবে। এছাড়া ব্যবহারকারীদের সচেতন করার জন্য বিটিআরসি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তথ্য প্রচার করবে।
এনইআইআর সিস্টেম চালুর মাধ্যমে মোবাইল অপারেটরদের দায়িত্বও বৃদ্ধি পাবে। তারা ব্যবহারকারীদের তথ্য যাচাই এবং সঠিকভাবে সিস্টেমে আপডেট করতে বাধ্য থাকবেন। এর ফলে মোবাইল ব্যবহারের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে এবং অননুমোদিত মোবাইল ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
একজন টেলিকম বিশ্লেষক বলেন, “নিবন্ধিত ডিভাইস ছাড়া মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার সম্ভব হবে না। এটি দেশে তথ্য নিরাপত্তা ও টেলিকম সেবার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।” তিনি আরও বলেন, “ব্যবহারকারীরা যদি তাদের মোবাইল তথ্য সঠিকভাবে নিবন্ধন না করেন, তবে তারা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারবেন না। তাই সময়মতো নিবন্ধন করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
এনইআইআর সিস্টেম চালু হওয়া দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও আইটি অবকাঠামোতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে। সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা পরিকল্পনার সঙ্গে এটি সঙ্গতিপূর্ণ। এছাড়া মোবাইল অপারেটরদের জন্যও এটি একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করবে যাতে তারা ব্যবহারকারীর তথ্য সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে।
বিটিআরসি জানিয়েছেন, ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে সিস্টেমটি ধাপে ধাপে চালু করা হবে। প্রথম পর্যায়ে মোবাইল অপারেটরদের ডিভাইস যাচাই করা হবে এবং পরে সাধারণ ব্যবহারকারীদের তথ্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হবে। এতে সিস্টেমের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা দুইই নিশ্চিত হবে।
এই সিদ্ধান্তের পর экспер্টদের মতে, ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। তারা বলেন, মোবাইল ডিভাইসের তথ্য সঠিকভাবে নিবন্ধন না করলে, নেটওয়ার্ক ব্যবহার ও অন্যান্য ডিজিটাল সেবার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফলে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বিটিআরসি আশা করছে, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এই সিস্টেম চালু হলে দেশের মোবাইল ব্যবহারের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি মোবাইল চুরি ও অননুমোদিত ব্যবহার কমবে, এবং ব্যবহারকারীরা নিরাপদ ও বৈধ নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা পাবেন।