প্রকাশ: ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় এখনো রহস্য উদঘাটনে পৌঁছাতে পারেনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)সহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও এই হত্যাচেষ্টার পেছনের মূল উদ্দেশ্য, পরিকল্পনাকারী এবং প্ররোচনাকারীদের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সূত্র হাতে আসেনি বলে জানাচ্ছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদকে এর আগে হাদির নির্বাচনি প্রচারণায় দেখা গেছে। এতে করে প্রশ্ন উঠেছে—কোন প্রক্রিয়ায় ফয়সাল হাদির ঘনিষ্ঠ বৃত্তে প্রবেশ করল এবং হঠাৎ করে কেন সে গুলিবর্ষণের মতো চরম সিদ্ধান্ত নিল। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই তদন্তের মূল জট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, ফয়সালকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে এই হত্যাচেষ্টার পেছনের পুরো চিত্র পরিষ্কার হবে। মাঠপর্যায়ে তারা বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছেন এবং সেই সূত্র ধরে গত সোমবার আরও পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিললেও সেগুলো যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
এরই মধ্যে শুটার ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীর ভারতে পালিয়ে গেছেন—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশ দাবি করছে, পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন রেকর্ড অনুযায়ী তারা এখনো দেশের ভেতরেই রয়েছে। তবুও কোনোভাবেই যাতে তারা অবৈধ পথে সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে, সে জন্য সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ-ধোবাউড়া সীমান্ত এলাকা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
হাদির ওপর গুলির ঘটনায় গত রোববার রাতে রাজধানীর পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ জাবের বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার থানা পুলিশ থেকে ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে তবে এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। একইসঙ্গে র্যাবও এই ঘটনায় ছায়া তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। র্যাবের একটি সূত্র জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক ও ফয়সালের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে আদালত ফয়সাল করিম মাসুদের স্ত্রী, শ্যালক এবং এক বান্ধবীকে পাঁচদিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তারা আশা করছেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাচেষ্টার পেছনের পরিকল্পনা ও সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর পুরানা পল্টনের বক্সকালভার্ট রোডে রিকশায় যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল থেকে গুলি করা হয় শরীফ ওসমান হাদিকে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। এই হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।