প্রকাশ : ১০ জুলাই | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ যাত্রাবাড়ী এলাকায় গভীর রাতে ঘটে গেল হৃদয়বিদারক এক দুর্ঘটনা। শহীদ ফারুক রোডের খাদিমুল কোরআন মহিলা মাদ্রাসা গলির একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে মাত্র তিন বছরের এক শিশু মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটের দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে ভবনটি। মুহূর্তেই চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে আগুনের শিখা আর ধোঁয়া। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে দগ্ধ পরিবারটির পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা ছুটে আসেন। প্রতিবেশী তাসলিমা মনি জানান, দুর্ঘটনার সময়ে পরিবারটির রান্নাঘরে গ্যাসের লিকেজ থেকে গ্যাস জমে ছিল। সেই অবস্থায় কোনো এক পর্যায়ে মশার কয়েল বা অন্য কোনো উন্মুক্ত আগুনের সংস্পর্শে এসে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।
দগ্ধরা হলেন রিপন (৪০), তার স্ত্রী ইতি আক্তার (৩০) এবং তাদের তিন বছরের শিশু কন্যা রাফিয়া। তারা সবাই রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছেন। ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, তিনজনের অবস্থাই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। রিপনের শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে, ইতির শরীরের ৪৫ শতাংশ এবং সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ছোট্ট রাফিয়ার শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসকরা তাদের বাঁচিয়ে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
রিপনের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলায় হলেও কাজের সুবাদে পরিবার নিয়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বাস করতেন তিনি। রাতের অন্ধকারে ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের অন্য বাসিন্দারা দগ্ধ পরিবারটিকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
প্রতিবেশীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ফ্ল্যাটটির রান্নাঘরে গ্যাস লিকেজের সমস্যা ছিল। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও এটি সারানো হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। এ ধরনের গাফিলতি আর অসতর্কতার কারণে অমূল্য তিনটি প্রাণ আজ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
এ ঘটনার পর থেকে যাত্রাবাড়ী এলাকায় গ্যাসের লিকেজসহ বাসাবাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত যথাযথ মেরামত ও সচেতনতার দাবি জানিয়েছেন, যেন এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে। পুলিশের পক্ষ থেকেও ভবনের নিরাপত্তা ও গ্যাস লাইন পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনকে এই ঘটনার দায় এড়ানো উচিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা। তারা বলেছেন, ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানীতে গ্যাস লাইনগুলোর নিয়মিত তদারকি ও জরুরি মেরামত নিশ্চিত না হলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আরও ঘটতে পারে।
গুরুতর দগ্ধ রিপন, ইতি ও শিশু রাফিয়ার চিকিৎসার জন্য এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা সবার কাছে দোয়া ও আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। রাজধানীর এ ধরনের দুর্ঘটনা যেন আর কোনো পরিবারের জীবন ও স্বপ্ন কেড়ে না নেয়, সে জন্য প্রয়োজন সবার সচেতনতা, সতর্কতা ও তদারকি।
একটি বাংলাদেশ অনলাইন