জুলাই ঐক্যের ‘মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাইকমিশন’, বিকেলে রামপুরা থেকে পদযাত্রা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮০ বার
জুলাই ঐক্যের মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাইকমিশন, বিকেলে রামপুরা থেকে

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাসহ গণহত্যা ও দমন–পীড়নের সঙ্গে জড়িত সব খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আজ বুধবার বিকেলে ‘মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাইকমিশন’ কর্মসূচি পালন করবে ঐক্যবদ্ধ মোর্চা জুলাই ঐক্য। সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে এই কর্মসূচির মাধ্যমে ভারত সরকার, তাদের কথিত প্রক্সি রাজনৈতিক শক্তি, মিডিয়া ও কিছু সরকারি কর্মকর্তার ভূমিকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হবে।

জুলাই ঐক্য জানিয়েছে, আজ বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ এলাকা থেকে এই মার্চ শুরু হবে। সেখান থেকে সংগঠনের নেতা-কর্মী ও অংশগ্রহণকারীরা নির্ধারিত পথে ভারতীয় হাইকমিশনের অভিমুখে অগ্রসর হবেন। আয়োজকদের দাবি, এটি হবে শান্তিপূর্ণ কিন্তু দৃঢ় অবস্থানভিত্তিক কর্মসূচি, যেখানে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষার বার্তা তুলে ধরা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন দেশপ্রেমিক ও বাংলাদেশপন্থি সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের একটি অংশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু)-এর একাধিক সাবেক ও বর্তমান নেতা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা ও স্কুলের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির মানুষ। জুলাই ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সরাসরি এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেবেন বলে জানানো হয়েছে।

জুলাই ঐক্যের ভাষ্য অনুযায়ী, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে, যাকে তারা ‘বাংলাদেশ ২.০’ হিসেবে অভিহিত করছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতাকে ব্যাহত করতে একটি চক্র নতুন করে সক্রিয় হয়েছে বলে সংগঠনটির অভিযোগ। তাদের দাবি, ভারতের প্রক্সি হিসেবে পরিচিত রাজনৈতিক দল, কিছু মিডিয়া এবং প্রভাবশালী মহল বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

সংগঠনটির অভিযোগে বলা হয়, চব্বিশের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে যেসব ব্যক্তি ও গোষ্ঠী গণহত্যা ও দমন-পীড়নের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের একটি বড় অংশকে ভারত আশ্রয় দিয়েছে। এতে করে বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শহীদদের পরিবার ও নিপীড়িত জনগণ। জুলাই ঐক্য মনে করে, এই পরিস্থিতি শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকিস্বরূপ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও দাবি করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রতীকী মুখ শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনার পর ভারতের বিভিন্ন মহলে আনন্দ-উল্লাসের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, যা বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। জুলাই ঐক্যের মতে, এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, কিছু শক্তি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যর্থ করতে চায় এবং স্বাধীন রাজনৈতিক অবস্থানকে দমন করতে তৎপর।

জুলাই ঐক্য এই কর্মসূচির মাধ্যমে ভারত সরকারকে সরাসরি বার্তা দিতে চায় যে, বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে হবে এবং তাদের দ্রুত বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে হবে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিও একটি স্পষ্ট আলটিমেটাম দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে, পরবর্তী যে কোনো পরিস্থিতির দায় দিল্লি এবং বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির নেতারা মনে করেন, ভারত ও তাদের প্রক্সি শক্তিগুলো বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় না। তাদের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে একের পর এক বিশৃঙ্খলা, বিভ্রান্তি ও সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ভীতি ও অনিশ্চয়তা তৈরি করে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

জুলাই ঐক্য মনে করে, চব্বিশের ছাত্র-জনতার যে ঐক্য গণ-অভ্যুত্থানের সময় গড়ে উঠেছিল, আজ আবার সেই ঐক্য নতুন করে প্রয়োজন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে দলমত নির্বিশেষে সব পেশার মানুষ, বিশেষ করে ছাত্র-জনতাকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের বক্তব্যে বলা হয়, এটি কোনো একক দল বা সংগঠনের কর্মসূচি নয়; বরং এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের পক্ষে একটি সম্মিলিত অবস্থান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কর্মসূচি রাজধানীর রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, গণহত্যার বিচার, অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচন—সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ফলে আজকের ‘মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাইকমিশন’ কর্মসূচি কতটা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব কীভাবে প্রতিফলিত হয়, সেদিকে নজর থাকবে দেশবাসীর।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের কথা জানা গেছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও কূটনৈতিক এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। আয়োজকরাও অংশগ্রহণকারীদের শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জুলাই ঐক্যের এই কর্মসূচি শুধু একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে চলমান বিতর্ক ও টানাপোড়েনেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত