প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে র্যাব। এ ঘটনায় মো. ফয়সাল (২৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। ফয়সালের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, একটি খেলনা পিস্তল এবং ৪১ রাউন্ড এমুনিশন উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী মঙ্গলবার রাতে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ফয়সালের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, একটি খেলনা পিস্তল এবং ৪১ রাউন্ড। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ফয়সালকে আটক করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাকে র্যাবের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী আরও বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নরসিংদীর সদর থানাধীন তরুয়া এলাকার মোল্লার বাড়ির সামনে তরুয়ার বিলে পানির মধ্যে থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। র্যাবের এই অভিযানের ফলে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ব্যবহৃত সরাসরি প্রমাণ হাতছাড়া হয়নি, যা তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরো জোরদার করেছে।
এর আগে প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০) এবং মা মোসা হাসি বেগমকে (৬০) গ্রেপ্তার করে র্যাব। এ ঘটনায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত ছিল তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
ঘটনার পটভূমি অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় চলন্ত রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। গুলিটি তার মাথায় লাগে, যা হাদির জীবন বিপন্ন করে তোলে। হামলাকারী ছিল চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা একজন আততায়ী। এই ঘটনার পর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মুহূর্তেই অভিযান শুরু করে এবং হামলার পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালায়।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ফয়সাল করিম মাসুদের নেতৃত্বে হাদিকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং গোলাবারুদের উদ্ধার ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সরবরাহ করেছে। র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের অভিযান ও প্রমাণাদি তদন্ত প্রক্রিয়াকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অনুরূপ হামলা প্রতিরোধে সহায়ক হবে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হাদির উপর চলমান হত্যাচেষ্টা দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার একটি প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেছে। হাদির ওপর হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তারা জানান, অস্ত্র ও গোলাবারুদের উদ্ধার এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির আটক দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শক্তিশালী করার একটি প্রমাণ।
র্যাবের এই অভিযান ও ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে হাদিকে হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য সহযোগীদের নাম এবং ঘটনার নেপথ্য কৌশলও উঠে আসতে পারে। বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। তদন্তকারীরা আশা করছেন, অস্ত্র ও গোলাবারুদের উদ্ধার ঘটনার মূল পরিকল্পনা এবং হামলার পেছনের প্রণেতাদের চিহ্নিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, যে কোনো ধরনের হামলার পরিকল্পনা যদি প্রকাশ পায়, তা র্যাব বা সংশ্লিষ্ট বিভাগ অবিলম্বে প্রতিহত করবে। দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা সংস্থা জনগণকে নিরাপত্তার প্রতি সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং হত্যাচেষ্টার ঘটনায় কোনো ধরনের সহানুভূতিপূর্ণ মনোভাব দেখালে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
হাদির ওপর হামলার ঘটনায় অস্ত্র ও গোলাবারুদের উদ্ধার দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে। এই অভিযান সরকারের পক্ষ থেকে একটি বার্তা প্রদান করেছে যে, দেশের যেকোনো নাগরিকের ওপর হামলার পরিকল্পনা থাকলে তা প্রতিহত করা হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনগণকে আশ্বস্ত করেছে যে, তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের চিহ্নিত করা হবে এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।