ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র সংশোধনের সুযোগ পাবে নতুন রাজনৈতিক দলগুলো

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৮ বার

প্রকাশ : ১০ জুলাই | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন দল নিবন্ধনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতিমধ্যে শতাধিক নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন জমা দিয়েছে। সেই আবেদনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শুরু করেছে কমিশন, যা প্রাথমিক পর্যায়ে শেষের দিকে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর অনেক দলের কাগজপত্রে ছোটোখাটো ত্রুটি ও অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। কোনো কোনো দলে নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তির নাম ও পদবীর বানান ভুল, কোনো কোনো দলের দলিলপত্র অসম্পূর্ণ বা শর্ত অনুযায়ী তথ্যসংযোজন প্রয়োজন—এমন একাধিক বিষয়ই উঠে এসেছে যাচাইয়ে। তাই এসব ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ দিতে নতুন দলগুলোকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেধে চিঠি দেবে কমিশন।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার গণমাধ্যমকে জানান, নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর আবেদনের কাগজপত্র প্রাথমিক পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যেসব দলে কাগজপত্র অসম্পূর্ণ বা তথ্যগত ত্রুটি আছে, তাদের সংশোধনের সুযোগ দিতে খুব শিগগিরই চিঠি দেওয়া হবে। চিঠি পাওয়ার পর থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সংশোধিত কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এরপরই যাচাই-বাছাইয়ের পরবর্তী ধাপে যাবে দলগুলো।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই ১৪৪টি দলের প্রাথমিক যাচাই চলছে। যে দলগুলোর কাগজপত্রে ঘাটতি আছে, তাদের একে একে চিঠি পাঠানো শুরু হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে একটি সময়সূচি বেঁধে দেওয়া হবে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশোধিত দলিলাদি জমা দিয়ে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় টিকে থাকতে পারে দলগুলো।

দেশের রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন অনুযায়ী, নতুন কোনো দল নিবন্ধন পেতে হলে তাদের একটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি থাকতে হবে, দেশের এক-তৃতীয়াংশ জেলা ও অন্তত ১০০টি উপজেলা বা থানায় কার্যকর কমিটি থাকতে হবে। এ ছাড়া পার্টি অফিস থাকতে হবে এবং কমপক্ষে ২০০ ভোটারের সমর্থনের দলিল দাখিল করতে হবে। কেউ যদি পূর্ববর্তী কোনো সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী দিয়ে ৫ শতাংশ ভোট পেয়ে থাকে, সেটিও নিবন্ধনের শর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব শর্ত পূরণ না করলে নিবন্ধন পাওয়া সম্ভব নয়।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ১০০টিরও বেশি দল নিবন্ধনের আবেদন করেছিল, তবে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের কারণে অধিকাংশই বাদ পড়ে। সেবার প্রাথমিকভাবে ৮১টি আবেদন বাতিল হয়, ১২টি দলের বিষয়ে তদন্ত হয় এবং শেষ পর্যন্ত মাত্র ২টি দল নতুনভাবে নিবন্ধিত হয়। বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫০।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর যথাযথ নিবন্ধন প্রক্রিয়া শক্তিশালী হলে নির্বাচনও বেশি অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য হবে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর কাঠামো শক্তিশালী করতে হবে, যাতে নির্বাচনকালীন সময়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে।

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রক্রিয়া শেষ করতে চায়। এজন্য নতুন দলগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব শর্ত পূরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন কমিশন কর্মকর্তারা। তবে এ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্ব যাতে না ঘটে, সে বিষয়েও সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত