প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ডে প্রথম ইসলামী ব্যাংক—এই অর্জন বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি, আর সেই রেমিট্যান্স আহরণে ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবেই ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এবার জাতীয় পর্যায়ের সর্বোচ্চ সম্মান অর্জন করল।
আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ও জাতীয় প্রবাসী দিবস উপলক্ষে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর ২০২৫) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রদত্ত রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬-এ প্রথম স্থান অর্জন করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণের জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়, যা ব্যাংকটির প্রবাসীবান্ধব সেবা, বৈদেশিক নেটওয়ার্ক এবং আস্থার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তাঁর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোহাম্মদ ওমর ফারুক খাঁন। এ সময় ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোতাহার হোসাইন মোল্লা এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স শুধু বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ায় না, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ এবং সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই প্রেক্ষাপটে ইসলামী ব্যাংকের মতো একটি ব্যাংকের শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখা দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
ইসলামী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরেই প্রবাসীদের জন্য সহজ, নিরাপদ ও দ্রুত রেমিট্যান্স সেবা নিশ্চিত করে আসছে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, এশিয়া ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ব্যাংকটির এক্সচেঞ্জ হাউস ও অংশীদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসীরা সহজেই বৈধ পথে দেশে অর্থ পাঠাতে পারছেন। আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, মোবাইল অ্যাপ এবং অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রেমিট্যান্স গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করেছে ইসলামী ব্যাংক।
ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, প্রবাসীদের আস্থা অর্জনই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে ইসলামী ব্যাংক নিয়মিত ক্যাম্পেইন, প্রণোদনা কার্যক্রম এবং প্রবাসীবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকারের ঘোষিত রেমিট্যান্স প্রণোদনা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যাংকটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, যুদ্ধ ও মুদ্রাস্ফীতির চাপের মধ্যেও বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল। এর পেছনে ব্যাংকিং চ্যানেলের উন্নয়ন, হুন্ডি দমন এবং প্রবাসীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকের মতো বড় ব্যাংকগুলোর সক্রিয় ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়, রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড শুধু একটি সম্মাননা নয়, বরং এটি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে। এতে করে প্রবাসীদের জন্য সেবার মান উন্নত হয় এবং জাতীয় অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ আরও বাড়ে। ইসলামী ব্যাংকের প্রথম স্থান অর্জন অন্যান্য ব্যাংকের জন্যও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, এই অর্জন তাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রবাসীদের আস্থা ধরে রাখতে এবং দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের অবদান আরও জোরদার করতে ব্যাংকটি নতুন নতুন উদ্যোগ নেবে। প্রবাসী গ্রাহকদের জন্য আরও আধুনিক সেবা, কম খরচে দ্রুত লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক মানের ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।
প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির নীরব যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশের উন্নয়ন, পরিবার-পরিজনের জীবনমান উন্নয়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। সেই প্রবাসীদের আস্থার প্রতিদান হিসেবেই ইসলামী ব্যাংকের এই জাতীয় স্বীকৃতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।