রংপুরে পুলিশের হুমকিতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সংকট

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫০ বার

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

রংপুরে পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করার কারণে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ও রংপুর অফিস প্রধান বাদশাহ ওসমানীসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার হুমকির শিকার হয়েছেন। রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মারুফত হোসাইনের বরাদ্দের মাধ্যমে সাংবাদিকদের কাছে ধামাকাধর্মী হুমকি পৌঁছানোর ঘটনায় রংপুরে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

বিগত সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের আওতাধীন পুলিশ ও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নানা ঘটনায় জনগণের নিরাপত্তা, ন্যায় এবং স্বচ্ছতা নিয়ে ‘আমার দেশ’ পত্রিকা একের পর এক তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে রংপুরের গঙ্গাচড়া মডেল থানার সাব-ইন্সপেক্টর উত্তম কুমারের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর জেলা পুলিশ সুপার মারুফত হোসাইনের প্রতিক্রিয়া এসেছে।

বাদশাহ ওসমানী জানান, ১১ ডিসেম্বর ‘ঘুষের টাকা না দেওয়াই খুনের আসামি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম ঘটনাটি তদন্তের জন্য নতুন পুলিশ সুপার মারুফত হোসাইনের দায়িত্ব দেন। ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তিনি গঙ্গাচড়া মডেল থানায় তথ্য সংগ্রহের জন্য ফোন করেন, কিন্তু পুলিশ সুপার ফোন রিসিভ না করে বারবার কেটে দেন। এরপর হোয়াটসঅ্যাপে হুমকিপূর্ণ মেসেজ প্রেরণ করেন। বাদশাহ ওসমানী জানান, মেসেজ পাওয়ার পর পুলিশ সুপার ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং তাকে এবং অন্যান্য সাংবাদিকদের ‘দেখে নেওয়া’ হবে বলে হুমকি দেন।

রংপুর সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজের আহ্বায়ক সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুস শাহেদ মন্টু বলেন, সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া কখনো মেনে নেওয়া হবে না। পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজন হলে সাংবাদিক সমাজ রাস্তায় নামবে। রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসানও জানান, ঘুষবাণিজ্য ও পুলিশি কদাচার নিয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের আচরণ ন্যায়সংগত নয়।

দিনাজপুর জেলা ও রংপুরের অন্যান্য সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, মারুফত হোসাইন আগে থেকেও সাংবাদিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন, তার উদ্দাম ও হুমকিপূর্ণ আচরণ সাংবাদিক সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। রংপুরে এ ধরনের হুমকির ঘটনা সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও তথ্য সরবরাহের স্বাধীনতার জন্য বড় ধমক স্বরূপ।

সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সরকার মাজহারুল ইসলাম বলেন, বাদশাহ ওসমানী একজন পরীক্ষিত সাংবাদিক, এবং তার বিরুদ্ধে হুমকি বা দমনমূলক আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও জানান, পুলিশ সুপার যদি এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নেন, তাহলে সাংবাদিক সমাজ প্রয়োজনে গণমাধ্যমে এবং রাস্তায় আন্দোলন করতে বাধ্য হবে।

রংপুর বিভাগীয় প্রধান লিয়াকত আলী বাদলও উল্লেখ করেন, পুলিশ সুপার মারুফত হোসাইনের আচরণ সাংবাদিকদের সঙ্গে ভালো নয়। তথ্য সংগ্রহ ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা রক্ষার জন্য তার অবস্থা উদ্বেগজনক। তিনি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পুলিশের সঙ্গে পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রশাসনকে সতর্ক করার আহ্বান জানান।

ঘটনার পর পুলিশ সুপার মারুফত হোসাইনের মোবাইলে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোন উত্তর দেননি। রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি ফিরে আসার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এই ঘটনায় রংপুরে সাংবাদিকদের মধ্যে নিরাপত্তা ও তথ্যপ্রাপ্তির স্বাধীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও নেতৃবৃন্দ এই ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে একযোগে প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত এবং প্রশাসনের কাছে ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত