ইইউ সম্মিলিত ঋণে ৯০ বিলিয়ন ইউরো ইউক্রেনকে দেবে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৬ বার
ইউরো ঋণ দিতে সম্মত ইইউ

প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইউক্রেনকে ৯০ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১০৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণ প্রদানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নেতারা। রাশিয়ার জব্দকৃত সম্পদ ব্যবহার সংক্রান্ত মতভেদের পরও দীর্ঘ আলোচনার পর ঋণের মাধ্যমে ইউক্রেনকে সহায়তা প্রদানের পথ অবলম্বন করা হয়েছে।

বিবিসি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত একদিনেরও বেশি সময় চলা শীর্ষ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় ইইউ। আগামী দুই বছর এই ঋণ ইউক্রেনের সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রয়োজন মেটাতে সহায়ক হবে বলে জানিয়েছেন ইইউ নেতারা। ঋণটি ইইউ’র সম্মিলিত বাজেটের গ্যারান্টিতে প্রদত্ত হবে বলে জানিয়েছেন ইইউ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিও কস্তা। সামাজিক মাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আমরা তা বাস্তবায়ন করেছি।’

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগেই প্রায় ২০০ বিলিয়ন ইউরো জব্দকৃত রুশ সম্পদ ব্যবহার করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে সম্পদের বড় অংশ সংরক্ষিত থাকা বেলজিয়াম এবং অন্যান্য সদস্য দেশ আইনি ঝুঁকি নিয়ে সম্মত না হওয়ায়, জব্দকৃত রুশ সম্পদ ব্যবহার না করে ঋণের মাধ্যমে সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত ইইউকে ‘বিশৃঙ্খলা ও বিভাজন’ থেকে রক্ষা করেছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মন্তব্য করেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে পুনরায় সংলাপে বসা ইউরোপের জন্য কার্যকর হতে পারে। তিনি আরও বলেছেন, ইউক্রেন এবং ইউরোপের স্বার্থে সঠিক কাঠামোর মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করা জরুরি।

অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ইউক্রেনের জন্য ঋণটি গুরুত্বপূর্ণ। জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে অর্থ সহায়তা না পাওয়া যায়, তাহলে দেশকে ড্রোন উৎপাদন কমাতে হতে পারে। ইইউ’র হিসাব অনুযায়ী, আগামী দুই বছরে টিকে থাকার জন্য ইউক্রেনের প্রয়োজন হবে অতিরিক্ত ১৩৫ বিলিয়ন ইউরো।

রাশিয়া আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, তাদের জব্দকৃত অর্থ ব্যবহার করা হলে তা কঠোর প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারে। এই ঋণ চুক্তি এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করছেন।

বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতিমধ্যেই এই ঋণের প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। ইউক্রেনের অর্থনীতি ও সামরিক প্রস্তুতি শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই ঋণ প্রদান করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঋণ সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন না পেলে ইউক্রেনের স্থিতিশীলতা সংকটে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইউক্রেনীয় জনগণ এই ঋণ চুক্তি নিয়ে আশাবাদী হলেও উদ্বিগ্ন। দেশটির সাধারণ মানুষ জানাচ্ছেন, সামরিক সহায়তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করাও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে চলমান যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে এই ঋণ ইউক্রেনকে সাময়িক শ্বাসরোধ থেকে মুক্তি দিতে পারে।

ইইউ নেতাদের মতে, ঋণের মাধ্যমে প্রদত্ত সহায়তা কেবল অর্থনৈতিক সমর্থন নয়, বরং ইউক্রেনকে আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থন প্রদানের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এতে ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি প্রকাশ পায়।

বর্তমানে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং অর্থনৈতিক সংকট সামলানোর চেষ্টা করছে। ইউরোপীয় ঋণ সহায়তা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয় হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যুদ্ধের তীব্রতা কমাতে এবং রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেও সহায়ক হবে।

ঋণ চুক্তির মাধ্যমে ইইউ এবং ইউক্রেনের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইউরোপীয় ঐক্যের দৃঢ়তা এবং ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে ঋণ কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউক্রেনের অর্থনীতি ও সামরিক প্রয়াস আরও শক্তিশালী হওয়ার আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত