লাল-সবুজ কফিনে দেশে ফিরছেন ওসমান হাদি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭৭ বার
লাল-সবুজ কফিনে দেশে ফিরছেন হাদি

প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সাতদিনের দীর্ঘ লড়াই শেষে বিদেশি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে হেরে যান ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও বাংলাদেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ওসমান হাদি। মৃত্যুর আগেই তিনি নিজেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি সাধারণ একটা কফিনে হাসিমুখে আল্লাহর কাছে হাজির হতে চান। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে তার লাশবাহী লাল-সবুজ কফিনে দেশে ফিরছেন তিনি।

ওসমান হাদির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শুক্রবার দুপুরে একটি পোস্ট করা হয়, যেখানে তার নিজের লেখা মন্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘হারাম খাইয়া আমি এত মোটাতাজা হই নাই, যাতে আমার স্পেশাল কফিন লাগবে! খুবই সাধারণ একটা কফিনে হালাল রক্তের হাসিমুখে আমি আমার আল্লাহর কাছে হাজির হবো।’ গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগে এমন আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন হাদি। পোস্টটি মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। এতে ৩ লাখ ৪৫ হাজার রিঅ্যাক্ট, ১৪ হাজার কমেন্টস এবং ২৭ হাজার শেয়ার হয়, যা নেটিজেনরা ব্যাপকভাবে শেয়ার করছেন।

স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে হাদির লাশবাহী ফ্লাইট সিঙ্গাপুর ত্যাগ করবে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে অবতরণের কথা রয়েছে। দেশে ফেরার পর শনিবার জানাজা শেষে দাফন করা হবে।

ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই, ১২ ডিসেম্বর, পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করে। মোটরসাইকেল থেকে এসে দুজন খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানা যায়, গুলি হাদির মাথার ডান দিক থেকে ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বের হয়ে গেছে।

পরিবারের ইচ্ছায় তাকে পরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ওসমান হাদির মৃত্যু পুরো দেশে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। তাঁর অনুসারী, সমর্থক এবং সাধারণ জনগণ শোক প্রকাশ করছেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হাদির মৃত্যুতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের ছড়াছড়ি দেখা গেছে। রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরে ক্ষুব্ধ জনতা নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।

ওসমান হাদি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যিনি নির্ভীক ও সাহসী ভুমিকা পালন করেছেন, তাঁর মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে মানবিক ও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে মানুষ তাঁর জীবন, আদর্শ ও বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার অবদান নিয়ে আলোচনা করছেন।

এবারের এই দেশে ফেরার মাধ্যমে লাল-সবুজ কফিনে দেশের মাটিতে সমাহিত হাদির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ভিড় এবং জাতীয় শোক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দও জানাচ্ছেন, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে হাদির ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ওসমান হাদির জীবন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেশের যুব সমাজকে অনুপ্রেরণা জোগাবে। তাঁর আত্মত্যাগ এবং জনগণের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার নতুন প্রজন্মকে রাজনৈতিক সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার শিক্ষা দেবে।

এই আবেগঘন পরিস্থিতিতে দেশে ফেরার পথে লাল-সবুজ কফিনে নিথর দেহে ফিরে আসা ওসমান হাদির ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে। জনগণ তাঁর জন্য প্রার্থনা করছেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত