প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
কুষ্টিয়ার শিল্পকলা একাডেমির সামনে অবস্থিত প্রথম আলো পত্রিকার অফিসে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে হামলা চালানো হয়। ঘটনার সময় অফিসটির সাইনবোর্ড, একটি কক্ষের দরজা-জানালা এবং বিভিন্ন আসবাবপত্রে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। হামলার সময় বিক্ষুব্ধ জনতাকে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা গেছে।
জানা গেছে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরে কুষ্টিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় জনতা। তারা টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধও করেন। ঘণ্টাব্যাপী মহাসড়ক অবরোধের পর অবরোধ প্রত্যাহার করলে রাত ১২টার দিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এরপর রাত দেড়টার সময় প্রথম আলোর অফিসসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া যায়।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, “এমন বেশ কিছু খবর শুনেছি। তবে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ আমরা পাইনি। অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টহল জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাতে শহরের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। অফিস ও বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতির ফলে অনেকেই রাতভর নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বাধ্য হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনার ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, এমন ধরনের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে জনগণের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা শুধু সাময়িক ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করে না, বরং শহরের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশকেও প্রভাবিত করে।
প্রথম আলো পত্রিকা জানিয়েছে, অফিসের আংশিক ক্ষয়ক্ষতির জন্য প্রয়োজনীয় মেরামত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পত্রিকার কর্মকর্তারা বলেন, সাংবাদিক কাজের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা সমাজের জন্য অপরিহার্য।
এই ঘটনায় স্থানীয় সমাজ ও প্রশাসন সতর্ক হয়ে উঠেছে। পুলিশ, পৌরসভা ও স্থানীয় নেতারা শহরের নিরাপত্তা বাড়াতে এবং পুনরায় এমন ঘটনা না ঘটতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছেন। শহরের সাধারণ মানুষও শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করছে।
ঘটনাটি কেবল একটি রাজনৈতিক উত্তেজনার ফল নয়, বরং সামাজিক সংহতি ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তা বিষয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে। কুষ্টিয়া শহরে এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।