প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
চট্টগ্রামে গত বছরের নভেম্বর মাসে ঘটে যাওয়া আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এসেছে। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি সুকান্ত দত্তকে বান্দরবান সদর থানাধীন নীলাচল যৌথ খামার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। এই অভিযানে র্যাব-৭ চট্টগ্রাম ও র্যাব-১৫ কক্সবাজারের যৌথ দল অংশ নেয়। গ্রেপ্তারকৃত সুকান্ত দত্ত (৩০) আনোয়ারা উপজেলার পূর্ব বারখাইন এলাকার বাসিন্দা।
গত বছরের ২৫ নভেম্বর সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকনের বহিষ্কৃত নেতা চিন্ময় দাসকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করার পর পরদিন আদালতে হাজির করা হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ সময় চিন্ময় দাসের অনুসারীরা চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভ দ্রুত বাড়তে থাকে এবং আদালত চত্বর ও আশপাশের এলাকায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
র্যাব জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালীন সময়ে আদালতের বিপরীতে রঙ্গম কনভেনশন সেন্টার এলাকায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে চন্দন দাশ, রুমিত দাশ, সুমিত দাশ, গগন দাশ, নয়ন দাশ, বিশাল দাশ, আমান দাশ এবং সুকান্ত দত্তসহ একাধিক ব্যক্তি সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে।
ঘটনার পর নিহত আইনজীবী আলিফের পিতা বাদী হয়ে ৩০ নভেম্বর ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১৫ জনকে আসামি করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর র্যাব গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সুকান্ত দত্তের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আইনজীবী আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি টানা দুই দিন কর্মবিরতিও পালন করে, যা এই হত্যাকাণ্ডের প্রতি আইনি সমাজের প্রতিক্রিয়ার প্রমাণ।
র্যাবের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সুকান্ত দত্তকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মামলার তদন্তে বড় অগ্রগতি এসেছে। র্যাবের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় পুলিশ হত্যাকারী ও সহযোগীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছেন। চট্টগ্রামের আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসন সর্বদা সতর্ক।
নিহত আইনজীবী আলিফের হত্যাকাণ্ড চট্টগ্রামের আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ এবং নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়িয়েছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলি এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবং সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
চট্টগ্রামে আইনজীবী আলিফ হত্যাকাণ্ডের পলাতক আসামি গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় নতুন মোড় এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসন আশা করছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্য পলাতক আসামিদেরও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে এবং বিচারের মাধ্যমে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে।